অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: ২০১৩ সালে সংস্কারের জন্য রাইটার্স বিল্ডিং ছেড়ে নবান্নে উঠে গিয়েছিল রাজ্য সচিবালয়। দীর্ঘ ১৩ বছর পর মে মাসে সরকার বদলের পর ফের মহাকরণে প্রশাসনের শীর্ষ স্তরকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ শুরু হয়। কিন্তু পূর্ত দফতরের কাজ খতিয়ে দেখার পর প্রশাসনের অন্দরেই প্রশ্ন উঠছে — মহাকরণ কি শেষ পর্যন্ত প্রতীকী সচিবালয় হয়েই থেকে যাবে?
নতুন সরকারের নির্দেশে প্রথম দফায় মুখ্যমন্ত্রী-সহ ছ’জন মন্ত্রীর জন্য ঘর প্রস্তুত করা হয়েছে। দুর্গাপুজোর আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দারের কক্ষ তৈরির কাজ শেষ করেছে পূর্ত দফতর।
একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় (সিএমও), মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি-র জন্য আলাদা কক্ষ এবং ডিজি-র বৈঠকের জন্য একটি কনফারেন্স রুমও তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এখনও কোনও মন্ত্রীই নিয়মিত মহাকরণে বসতে শুরু করেননি।
পূর্ত দফতরের আধিকারিকদের দাবি, কাজ এগোতেই স্পষ্ট হয়েছে, গত ১৩ বছরে সরকারি দফতরগুলির পরিধি যে ভাবে বেড়েছে, তাতে সব দফতরকে আর পুরনো মহাকরণে ফেরানো কার্যত অসম্ভব।
বর্তমানে নবান্নের ১৪ তলা জুড়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের অফিস রয়েছে। নব মহাকরণ জুড়ে রয়েছে শ্রম, বিদ্যুৎ, আবাসন, ক্রীড়া, সমবায়ের মতো দফতর। এ ছাড়া শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, পূর্ত, জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পঞ্চায়েত এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরগুলি এখন সল্টলেক ও নিউ টাউনে বিশাল পরিসরে কাজ করছে। সেই পরিকাঠামো মহাকরণে স্থানান্তর করা সম্ভব নয়।
এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর পুরো দফতরকেও সেখানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন এক শীর্ষ আধিকারিক। তাঁর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও ডিজি-র বসার ব্যবস্থা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাঁদের আলাদা বৈঠকের ঘরের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। বিষয়টি শীর্ষ নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ সচিবালয় ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ।”
এ প্রসঙ্গে পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার বলেন, “সরকার যেভাবে নির্দেশ দেবে, আমরা সেভাবেই কাজ করব। মহালয়ার মধ্যে ছ’জন মন্ত্রীর ঘর প্রস্তুত করতে বলা হয়েছিল, আমরা তা করেছি। মুখ্যমন্ত্রী বসলেই বাকি মন্ত্রীরাও কাজ শুরু করবেন। তবে মহাকরণ এখনও এমন পর্যায়ে প্রস্তুত নয় যাতে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পূর্ণাঙ্গ সচিবালয় নিয়ে স্থায়ীভাবে কাজ করতে পারেন। পুরো সচিবালয় ফিরবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশ এখনও আসেনি।”
ফলে মহাকরণকে কেবল প্রতীকী মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হবে কি না, তা নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে প্রশাসনিক মহলে।