হামলাচক্রে বইবিপনী
রাজনৈতিক অসন্তোষ থেকে দূরে থাকতে পারলো না এবারের দুর্গাপুজো। এক দিকে যেমন চোরবাগানের বিপর্যয়, যাকে ঘিরে তুঙ্গে উঠল রাজনৈতিক কোন্দল, অন্যদিকে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে বামপন্থীদের বুকস্টল। শহর কলকাতা তো বটেই, গোটা রাজ্য জুড়ে যেভাবে তাদের বুকস্টলগুলি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠল, তা বঙ্গ রাজনীতিতে বিরল। সিপিএম তথা বাম শিবিরে প্রতিবাদের ঝড় তো উঠলোই, তার উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন বিজেপি সরকারের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ও সঙ্ঘ নেতা জিষ্ণু বসু। বুকস্টলগুলির উপর হামলার প্রতিবাদে শাসক শিবিরের এই দুই হেভি ওয়েটের প্রকাশ্য নিন্দায় অস্বস্তিতে যে বিজেপি, তা আর অস্পষ্ট নয় বঙ্গ বিজেপি প্রধান শমীক ভট্টাচার্যর কথায়। প্রথা মাফিক এবারও তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই। তাহলে প্রশ্ন হল- বিজেপির নাম করে যারা এইসব বুকস্টলের উপর হামলা চালালো তারা কারা ?
আরএসএস নেতা জিষ্ণু বসু তাঁর ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন,, মতাদর্শগত ফারাক থাকলেও বই বিক্রি ও মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। একধাপ এগিয়ে, বিজেপি সরকারের অর্থমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন, এই ঘটনায় তিনি লজ্জিত। তিনি স্পষ্টতই বলেছেন, এই ঘটনা তাঁর মাথা নত করে দিয়েছে। বস্তুত, এই দুই ব্যক্তির কথাকে অস্ত্র করে ময়দানে নেমেছে সিপিএম। যা নিয়ে পুজোর মধ্যে বঙ্গ রাজনীতিতে বিতর্ক তুঙ্গে। খোদ যাদবপুরে দেখা গেছে, পুলিশকে গিয়ে বামেদের বুকস্টল বন্ধের ফতোয়া জারি করতে। এই ধরণের ঘটনাকে জিষ্ণু বসু বলেছেন, ‘ক্ষমতার দম্ভে পুলিশকে কাজে লাগানো হচ্ছে।” শুধু রাজ্য রাজনীতি নয়, সর্ভারতীয় স্তরেও এই ঘটনা নিয়ে নিন্দা দেখা যাচ্ছে। বাংলার দুর্গোৎসব ঘিরে আবহমান কাল ধরে যে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সুনাম ছিল, তা কি রাজনীতির পেশীশক্তিতে কলঙ্কিত হল ?