ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্য রাজনীতিতে ফের আলোচনার কেন্দ্রে বাম-কংগ্রেস সমীকরণ। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, পশ্চিমবঙ্গে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার পথেই হাঁটতে চায় দলটি। একাধিক রাজ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চললেও, বাংলার ক্ষেত্রে আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বাম-কংগ্রেস যৌথ লড়াইয়ের সম্ভাবনাকে।
বৈঠকে সিপিএম নেতৃত্বের বক্তব্য, রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির দ্বিমুখী রাজনীতির মাঝে বামপন্থী ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলিকে একসঙ্গে লড়াই করতেই হবে। গত কয়েকটি নির্বাচনে আলাদা আলাদা লড়াই করে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেই এই রাজনৈতিক কৌশলগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে দল। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মতে, ভোট বিভাজন আটকাতে না পারলে বিরোধী রাজনীতির অস্তিত্ব আরও সংকুচিত হবে।
তবে সিপিএমের এই আগ্রহের বল এখন কংগ্রেসের কোর্টে। রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্বের একাংশ এখনও বিষয়টি নিয়ে দ্বিধায়। তাদের মতে, বামেদের সঙ্গে জোটে গেলে কংগ্রেসের নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক কতটা সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সাম্প্রতিক লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে রাজ্য কংগ্রেসের একটি অংশ মনে করছে, দলকে নিজের সংগঠন মজবুত করাতেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
রাজ্য রাজনীতির অন্দরে আলোচনা, কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যদি জোটের পক্ষে সবুজ সংকেত দেয়, তবে রাজ্য ইউনিটকে সেই সিদ্ধান্ত মেনে চলতেই হবে। যদিও এখনও পর্যন্ত কংগ্রেসের তরফে চূড়ান্ত কোনও অবস্থান ঘোষণা করা হয়নি। রাজনৈতিক মহলের মতে, দিল্লি ও কলকাতার কংগ্রেস নেতৃত্বের মতপার্থক্যই এই সিদ্ধান্তকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, যদি বাম ও কংগ্রেস ফের একসঙ্গে নির্বাচনী ময়দানে নামে, তাহলে বহু আসনে ত্রিমুখী বা চতুর্মুখী লড়াইয়ের সমীকরণ বদলে যেতে পারে। তবে শুধুমাত্র জোট ঘোষণা করলেই সংগঠন ও মাঠের বাস্তবতা বদলে যাবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। তবুও সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তে স্পষ্ট, রাজ্যে বিরোধী রাজনীতিকে নতুন করে দাঁড় করাতে তারা কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলার পথেই এগোতে চাইছে।
