বিপ্লব দাশ : সংসদে ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করল কেন্দ্র। তা নিয়ে দিনভর প্রবল হৈ হট্টগোল। বিরোধীরা ফের একজোট। ফলে SIR-এর পাশাপাশি, এই সংশোধনী বিল নিয়ে বিরোধীরা যে যুদ্ধং দেহী অবস্থান নিতে চলেছে তা শুরুতেই স্পষ্ট। কিন্তু কি আছে এই বিলে ? সংসদে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই বিল পেশ করতে গিয়ে বলেছেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী, যে কোন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী যদি গুরুতর অপরাধে টানা ৩০ দিন জেলবন্দি থাকেন, তবে ৩১তম দিনে তিনি পদ খোয়াবেন।
উত্তম কথা, কিন্তু বিজেপির এই আদর্শ গণতান্ত্রিকতার মধ্যে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, ইডি, সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থা দিল্লির অধীনে। আর এই স্বশাসিত এজেন্সিকে গত ১১ বছর ধরে অপব্যবহার করেছে মোদি-শাহ সরকার। বিরোধীদের দুর্বল করতে বিজেপি ইডি, সিবিআইকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেছে, বিরোধীদের এই অভিযোগ প্রথম থেকেই। এবার তাঁদের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত বিল আইনে পরিণত হলে বিরোধী শূন্য দেশ করে দেবে বিজেপি। এই বিল আসলে বিরোধীদের সরকার ফেলে দিতে বিজেপির নতুন হাতিয়ার বলে তাঁরা আওয়াজ তুলেছেন। ইন্ডিয়া জোটের অভিযোগ, এই বিল দেশের গণতন্ত্র, সাংবিধানিক ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে। তাই সংসদে এই বিল পেশ হতেই তুমুল বিক্ষোভ শুরু করে বিরোধীরা। স্বাভাবিক কারণেই সোচ্চার হয়েছেন এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিও বিরোধীদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে এই বিলের ত্রীব্র বিরোধীতা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এটি ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে নজিরবিহীন আঘাত। দেশের গণতন্ত্র ও ফেডারেল স্ট্রাকচার স্থায়ীভাবে ধ্বংস করার পথে একটি পদক্ষেপ।
আসলে বিরোধীরা এখন সিঁদুরে মেঘ দেখছেন। যে ভাবে মোদী জমানায় বিরোধীদের পিছনে রাষ্ট্রীয় শক্তিগুলোকে কার্যত লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাতে তাঁরা মনে করছেন, যে কোনো ছুতোয় এবার এটা বিরোধীদের জেলবন্দী করার একটা ষড়যন্ত্রকারী আইন চালু করতে চাইছে মোদী সরকার। ভবিষ্যতে যাই হোক, রাজনৈতিক ভাবে এটা যে আপাতত ভোটার তালিকার সংশোধন বিরোধী স্বরকে ধামাচাপা দেওয়ার একটা চেষ্টা, এটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কারণ, এই মুহূর্তে SIR-কে সামনে রেখে বিরোধীরা যে ভাবে এককাট্টা হয়েছে তা বিজেপির পক্ষে স্বস্তির নয়। এখন দেখার, এই জোড়া ইস্যুতে বিরোধীরা কী অবস্থান নেয়।
