
ওঙ্কার ডেস্ক : অবশেষে লোকসভায় পাশ হল ওয়াকফ বিল ২০২৪। বিলটি নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে সংঘাত চরমে ওঠে শাসক ও বিরোধীদের মধ্যে। তবু বিলটির গুরুত্ব নিয়ে ম্যারাথন আলোচনা চলে লোকসভায়। ইন্ডিয়া জোটের নেতারা ভোটাভুটির সময় বিলটির বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন। তারমধ্যেই সংসদে ওয়াকফ বিল পেশ করেন কিরেন রিজুজি। সাংবাদিকদের জানান, স্পিকার ওম বিড়লার সভাপতিত্বে লোকসভার কার্য উপদেষ্টা কমিটি (বিএসি) চেষ্টা করেছে যাতে সর্বসম্মত ভাবে বিলটি পাশ হয়।
এই আলোচনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও ছিলেন। ওয়াকফ বিলের বিরুদ্ধে লোকসভার বাইরে কংগ্রেস সংসদরা বিক্ষোভ দেখান। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে বিলটি নিয়ে কেন এত বিরোধ।
মুসলিম আইনে বলা আছে কোন সম্পত্তির দলিলের মাধ্যমে যদি আল্লাহর নামে লিখে দেওয়া হয় তাহলে সেই সম্পত্তিকে বলা হয় ওয়াকফ সম্পত্তি। মূলত আল্লাহর সেবার কাজে এই সম্পত্তিগুলো দেওয়া হয়। যা আর ফেরত পাওয়া যাবে না। সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কবর মসজিদের জন্য ও দরিদ্রদের থাকার কাজে ওয়াকফ জমিগুলি ব্যবহার করা হয়। ঠিক এই ক্ষেত্রে কিরেন রিজিজু দাবি করেন, “সরকার কোনও ধর্মীয় সংগঠন বা তাদের কাজকর্মে হস্তক্ষেপ করছে না। কোনও মসজিদের সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করছি না আমরা। ওয়াকফ বোর্ডের সঙ্গে ধর্মের কোনও যোগ নেই, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয় এটি।” তিনি আরও বলেন, “মুসলমানদের ভালোর জন্য ওয়াকফ সংশোধনী বিল।”
ওয়াকফ আইনে কী কী সংশোধন করেছেন সরকার ?
১. ওয়াকফ কাউন্সিল যে কোনও জমির অধিকারের দাবি জানাতে পারবে না। এই বিল মূলত ওয়াকফ বোর্ডের ক্ষমতায় রাশ টানতে চাইছে। নয়া বিল অনুযায়ী, ওয়াকফ সম্পত্তি বাধ্যতামূলকভাবে ডিস্ট্রিক্ট কালেকটরের অফিসে রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে, যাতে সম্পত্তির সঠিক মূল্যায়ন হয়।
২. ওয়াকফ বোর্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনও বিতর্ক থাকলে হাইকোর্টে আবেদন করা যাবে।
৩. এতদিন পর্যন্ত কোনও নথি না থাকলেও, মৌখিকভাবে ওয়াকফ সম্পত্তি চিহ্নিত করা যেত। এ বার থেকে নথি না থাকলে সেই জমি বিতর্কিত বলেই ধরে নেওয়া হবে।
৪. যে কোনও সময় ওয়াকফ সম্পত্তির অডিট করতে পারবে ক্যাগ, নয়া সংশোধনীতে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকতে পারে সেই ক্ষমতা।
৫. কমপক্ষে পাঁচ বছর ইসলাম ধর্ম পালনের পরই ওয়াকফে সম্পত্তি দান করা যাবে।
৬. ওয়াকফ বোর্ডে অ-মুসলিম সদস্য ও অন্তত দুইজন মহিলা সদস্য যোগদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
৭. কেন্দ্রীয় ওয়াকফ কাউন্সিলে একজন অ-মুসলিম কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, তিন জন সাংসদ, দুইজন প্রাক্তন বিচারপতি, উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
৮. মূলত সম্পত্তিতে মুসলিম মহিলা ও শিশুদের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যই ওয়াকফ আইনে সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।
বিরোধীদের দাবি, এই বিল পাশ করে কেন্দ্র আসলে সংখ্যালঘুদের অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে চাইছে। তবে ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে এই হৈচৈর মধ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। তাঁদের মতে রাজনীতির সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতি সেটা চিহ্নিত করছে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে দলের সাংসদ কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, জমি দখলই হল সরকারের অভীষ্ট লক্ষ্য। তবে এই নয়া বিল থেকে সংখ্যালঘুরা আদৌ উপকৃত হন কিনা তা ভবিষ্যৎ বলবে।