ওঙ্কার ডেস্ক: জাতপাত ও ছোঁয়াছুঁয়িকে কেন্দ্র করে যখন ভারতের বিভিন্ন জায়গায় রাজনীতি আবর্তিত হচ্ছে। সেই সময়ে এক আশার আলো দেখাল মহারাষ্ট্রের সৌন্দালা গ্রামের মানুষ। এই গ্রামের মানুষ কার্যত সামাজিক বিপ্লব ঘটিয়েছেন। নিজেদেরকে জাতপাত মুক্ত হিসেবে ঘোষণা করেছেন তাঁরা। গ্রামসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের মাধ্যমে ‘আমচি জাত…মানব’ (আমার জাত মানবতা) নীতি গ্রহণ করেছেন গ্রামবাসী।
রিপোর্ট অনুসারে, শুধু মহারাষ্ট্রে প্রথম নয়, সম্ভবত ভারতের প্রথম জাতপাত মুক্ত গ্রাম বলে দাবি স্থানীয় প্রশাসনের। গত ৫ ফেব্রুয়ারি অহিল্যানগর জেলার নেভাসা তালুকের সৌন্দালাতে গ্রামসভার সভা আয়োজিত হয়েছিল। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে এই প্রস্তাবটি পাস হয়। গ্রামের প্রধান শরদ আরগাড়ে বৃহস্পতিবার সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘এটি একটি ছোট উদ্যোগ। তবে এটি অনেক দূর এগিয়ে যাবে। সৌন্দালা এখন একটি জাতপাতমুক্ত গ্রাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘সভায় বিভিন্ন বর্ণের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। এমনকি মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনও ছিলেন। সকলেই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।’ ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনায় জোর দেওয়া হয়, বিশেষ করে স্বাধীনতা, সাম্য এবং ভ্রাতৃত্বের মূল্যবোধের উপর। আরগাদে বলেন, ‘সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কেউ জাতপাত মানবে না বা জাত-ভিত্তিক কাজকর্মে লিপ্ত হবে না। আমরা ‘আমচি জাত…মানব’ দ্বারা পরিচালিত হব। জনগণ মানবতাকে অনুসরণ করবে।’
সংবিধানের নীতিমালার বিরুদ্ধে কেউ আচরণ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তির বিধানও রয়েছে প্রস্তাবটিতে। বিশিষ্ট সমাজকর্মী প্রমোদ জিনজাদের চেষ্টায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি মহাত্মা ফুলে সমাজ সেবা মন্ডলের প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ভেদাভেদ নির্মূলের জন্য কাজ করছেন তিনি।
