বিকশিত ভারতের ব্যারোমিটারে বাংলা সাহেব গুরুদুয়ারা
বিকশিত ভারত, লক্ষ্যে ২০৪৭। তার ঠিক ২০ বছর আগে, ২০২৭-এ পাঞ্জাব নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে অগ্রগতির ওয়ার্ম-আপটা আন্দাজ করা যেতে পারে। সামনের বছরই রাজনৈতিক দিক থেকে দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য উত্তরপ্রদেশ ও পাঞ্জাবের ভোট। উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে অযোধ্যা এখনও জ্বলন্ত ইস্যু। এবার পাঞ্জাবেও তারই প্রতিধ্বনি বাংলা সাহেব গুরুদুয়ারায়। অর্থাৎ বিকাশের বুলি যতই মুখশুদ্ধি হোক না কেন, নতুন পকেটে রাখতে হচ্ছে সেই পুরোনো কার্ড। ভোটের হিসেব নিকেষে এসে পড়ছে সাম্প্রদায়িক ফর্মুলা। আর এখানেই পাঞ্জাব নির্বাচনে আপ ও বিজেপির প্রধান লক্ষ্য- বাংলা সাহেব গুরুদুয়ারা। তাই ২০২৭-এ পাঞ্জাব নির্বাচনে ধর্ম একটি প্রধান ইস্যু হয়ে ওঠার যথেষ্ট সম্ভাবনা। এখনই আলোচনার কেন্দ্রে এসে গেছে ধর্মীয় অবমাননা, বিতর্কিত ‘জাগাত জোত শ্রী গুরু গ্রন্থ সাহেব সৎকার (সংশোধনী) আইন, ২০২৬’ এবং ‘পান্তিক’ রাজনীতির মতো বিষয়গুলো।
বাংলা সাহেব গুরুদুয়ারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আপ এবং বিজেপির কাজিয়া এখনই স্পষ্ট। শিখ ধর্ম এবং গুরুদুয়ারা ও গুরু গ্রন্থ সাহেবের পবিত্রতা রক্ষার ক্ষেত্রে একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে এই দুই দল। বিশেষ করে, ধর্মীয় অবমাননা রোধে প্রণীত আইনের ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণে আপ-এর মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ভগবন্ত মানকে শ্রী অকাল তখত থেকে ভর্ৎসনা করা হয়েছে। তাঁকে ‘গুরু-দ্রোহী’ হিসেবে দেখানো শুরু হয়ে গেছে।
এই রাজনৈতিক কাজিয়ায় একটা কথা মনে পড়ছে। ২০২০তে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘বন্দুক ও ঈশ্বরের বিষয়ে যদি আপনাদের আগ্রহ থাকে, তবে তাদের চেয়ে আমার সঙ্গেই আপনারা বেশি ভালো থাকবেন।’ এদেশের বিকাশের ধ্বজাধারীদের কী এই সাহস হবে কোনোদিন ?