নিজিস্ব সংবাদতদাতা : ওড়িশায় কাজ করতে গিয়ে বাংলা ভাষা বলায় বলি হতে হল বাংলার যুবককে। তাঁকে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। মুর্শিদাবাদের সুতি এলাকার পরিযায়ী শ্রমিক জুয়েল রানার এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, “বাংলায় কথা বলা অপরাধ হতে পারে না।”
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে একটি জিরো ডেয়েরি দায়ের করা হয়েছে এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৬জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি লিখেছেন, “প্রতিটি বিজেপি – শাসিত রাজ্যে বাংলাভাষী মানুষের উপর যে নির্মম অত্যাচার ও নিগ্রহ নেমে এসেছে আমরা তাকে তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি। আমরা নিগৃহীত, সন্ত্রস্ত ও অত্যাচারিত সেইসব পরিযায়ী বাংলাভাষী পরিবারের পাশে আছি, সেই সব পরিবারকে আমরা সমস্ত রকম সমর্থন দেবো। মানুষের জীবনের বিনিময়ে কোন মূল্য হয় না, কিন্তু যেসব ক্ষেত্রে মৃত্যু ঘটছে সেইসব ক্ষেত্রে আমাদের অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণের অঙ্গীকার রইল।”
গত ২৪ ডিসেম্বর রাতে ওড়িশার সম্বলপুরে জুয়েল রানার হত্যা নিয়ে জল ঘোলা হতেই ওড়িশা প্রশাসন থেকে বলা হয়, পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে নয়, বিড়ি নিয়ে বচসার জেরে এই ঘটনা। এরপরেই বাংলা থেকে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এই হত্যার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ইতিমধ্যেই সুতি থানায় একটি জিরো এফআইআর দায়ের করেছে। তদন্তের জন্য পশ্চিমবঙ্গের একটি পুলিশ দল ওড়িশায় গেছে।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর X-এ বলেছেন, ” অতি সম্প্রতি জঙ্গিপুর এলাকার কিছু পরিযায়ী শ্রমিকের উপর বিজেপি- শাসিত ওড়িশা রাজ্যে নানা অত্যাচার নেমে এসেছে। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে জঙ্গিপুরের সুতি এলাকার এক তরুণ পরিযায়ী শ্রমিককে সম্বলপুরে ২৪ শে ডিসেম্বর তারিখে পিটিয়ে মারা হয়েছে। মুর্শিদাবাদে পরিযায়ী শ্রমিকরা ওড়িশা থেকে সন্ত্রস্ত হয়ে বাড়ি ফিরছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা পরিবারগুলির সঙ্গে আছি এবং নিহতের পরিবারের প্রতি আমাদের আর্থিক সহায়তাও পৌঁছে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে এই ঘটনার জন্য দায়ীদের নিন্দা জানাই এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সম্ভাব্য সকল সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। বাংলা ভাষায় কথা বলা অপরাধ হতে পারে না।”
সম্বলপুরের ঘটনার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জুয়েল রানা নামে ওই যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ইতিমধ্যেই সুতিয়া থানায় একটি জিরো এফআইআর দায়ের করেছে এবং ইতিমধ্যেই ৬জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমার রাজ্য থেকে একটি পুলিশ দল তদন্তের জন্য ওড়িশায় গেছে।”
