ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এ বছরও নজিরবিহীনভাবে বিপুল সংখ্যক দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে অংশ নিলেন। কলকাতা থেকে শুরু করে জেলাগুলিতে ছড়িয়ে থাকা একের পর এক পুজো মণ্ডপে
উপস্থিত ছিলেন তিনি। সরকারি হিসেবে দেখা যাচ্ছে, এবার তিনি তিন হাজারেরও বেশি পুজোর উদ্বোধন করেছেন। শুধুমাত্র মহানগরী কলকাতাতেই নয়, শহরতলি এবং গ্রামীণ বাংলাতেও তিনি উদ্বোধনে শামিল ছিলেন।
উপস্থিতির সঙ্গে পুজো কমিটিগুলির আর্থিক সহায়তায়ও প্রতিবছরই বাড়ছে সরকারের নজরদারি। আগে যেখানে অনুদান পেত প্রায় ২৮ হাজার পুজো কমিটি, এখন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫ হাজারে। প্রতি পুজো কমিটিকে দেওয়া অনুদানও ধাপে ধাপে বেড়েছে। এবারে প্রতিটি পুজো কমিটিকে দেওয়া হচ্ছে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। শুধু তাই নয়, বিদ্যুতের বিল মকুব থেকে শুরু করে পুলিশি নিরাপত্তা, সব ক্ষেত্রেই রয়েছে প্রশাসনিক সহায়তা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে কলকাতার দুর্গাপুজো ইতিমধ্যেই ইউনেস্কোর ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’-এর স্বীকৃতি পেয়েছে। পুজোর আবহে বিদেশি পর্যটক থেকে দেশি দর্শনার্থী—সবাই ভিড় জমাচ্ছেন কলকাতায়। মুখ্যমন্ত্রী নিজে বারবার বলেছেন, দুর্গাপুজো বাংলার গর্ব, বাঙালির সত্তা। তাই পুজোকে কেন্দ্র করে সরকারের যাবতীয় উদ্যোগ আসলে বাংলার সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরারই প্রয়াস।
রাজনৈতিক মহলে অবশ্য এই অংশগ্রহণকে নতুন করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিজেপি, বামফ্রন্ট বা কংগ্রেস কোনও রাজনৈতিক দলই পুজোর মঞ্চে মমতার সমান জায়গা করে নিতে পারেনি। যেখানে মুখ্যমন্ত্রী একা হাজার হাজার পুজোতে পৌঁছে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্র গড়ে তুলছেন, সেখানে বিরোধী শিবির অনেকটাই পিছিয়ে।
পুজো শেষে মহোৎসবের আবহ টেনে রাখার জন্য রাজ্য সরকার গত কয়েক বছর ধরে আয়োজন করছে ‘পুজো কার্নিভাল’। যেখানে ভিড় জামায় হাজার হাজার মানুষ।
