ওঙ্কার ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম জেলার ঘন অরণ্যে মোড়া সারান্ডা জঙ্গল বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই পরিণত হয়েছিল কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে। বহুদিন ধরেই এই অঞ্চল মাওবাদীদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়ার পরই যৌথ বাহিনী বড়সড় অভিযানের পরিকল্পনা করে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ভোরের আলো ফোটার আগেই জঙ্গলের ভেতরে ঢুকে পড়ে ঝাড়খণ্ড পুলিশ, সিআরপিএফ এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা। নিরাপত্তা বাহিনীর আক্রমণে একাধিক মাও নেতা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন, কিন্তু সঠিক সংখ্যা এখনো প্রকাশ করেনি বাহিনী।
নিরাপত্তা বাহিনী জঙ্গলের ভেতরে তল্লাশি চালাতে শুরু করতেই আচমকা গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে চারদিক। ঘন গাছপালা আর পাহাড়ি ভূখণ্ডের আড়াল নিয়ে মাওবাদীরা বাহিনীকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে। পাল্টা জবাব দেয় নিরাপত্তা বাহিনীও। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে টানা গুলির লড়াই। বিস্ফোরণের শব্দ, স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের গর্জন আর ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে অতিরিক্ত বাহিনীও ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
দীর্ঘ সংঘর্ষের পর জঙ্গলের একাধিক জায়গা থেকে কয়েকজন মাওবাদীর দেহ উদ্ধার হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, নিহতদের মধ্যে সংগঠনের একাধিক শীর্ষ নেতা ও সক্রিয় সদস্য ছিল। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গুলি, বিস্ফোরক এবং নথিপত্র। এসব দেখে অনুমান, বড় ধরনের নাশকতার ছক কষছিল মাওবাদীরা। অভিযানের পরও পুরো এলাকা ঘিরে রেখে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কারণ জঙ্গলের ভেতরে আরও লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন। স্থানীয় গ্রামবাসীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। অনেকেই দূর থেকে গুলির শব্দ শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সারান্ডা দীর্ঘদিন ধরেই মাওবাদী কার্যকলাপের অন্যতম কেন্দ্র। এই অঞ্চলে আধিপত্য কায়েম রাখতে মাঝেমধ্যেই নিরাপত্তা বাহিনী ও মাওবাদীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক এই অভিযানকে বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছে পুলিশ। তাদের মতে, এর ফলে এলাকায় মাওবাদী সংগঠনের নেটওয়ার্ক বড় ধাক্কা খেয়েছে। তবে পুরো পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। জঙ্গলে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনও ধরনের নাশকতা বা হামলার ঘটনা না ঘটে।
