ওঙ্কার ডেস্ক : বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে অভিযুক্ত বাবু আব্দুল রুফ সরদারের জামিন বম্বে হাইকোর্ট নাকচ করে দিল। যাঁর বিরুদ্ধে বৈধ পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি ছাড়াই অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ভোটার আইডির জাল ভারতীয় নথি জোগাড় করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার বম্বে হাইকোর্ট জানিয়ে দিল, শুধুমাত্র আধার কার্ড, প্যান কার্ড বা ভোটার আইডির মতো নথি থাকলেই একজন ব্যক্তি ভারতের নাগরিক হয়ে ওঠেন না। ফলে ওই ব্যক্তির জামিন নাকচ করে দিল আদালত।
বিচারপতি অমিত বোরকারের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, নাগরিকত্ব আইনের বিধান অনুসারে কে ভারতের নাগরিক হতে পারে এবং কীভাবে নাগরিকত্ব অর্জন করা যেতে পারে। একই সঙ্গে জানিয়ে দেয়, আধার কার্ড, প্যান কার্ড এবং ভোটার আইডির মতো নথিগুলি কেবল সনাক্তকরণ বা পরিষেবা গ্রহণের জন্য।
বিচারপতি বোরকার উল্লেখ করেছেন, ১৯৫৫ সালে সংসদ নাগরিকত্ব আইন পাস করে দেশের নাগরিকত্ব অর্জনের জন্য একটি স্থায়ী এবং সম্পূর্ণ ব্যবস্থা তৈরি করেছে। আদলত বলে, ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন হল- ভারতে জাতীয়তা সম্পর্কিত প্রশ্নগুলির সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রধান এবং নিয়ন্ত্রণকারী আইন। এটি সেই আইন যা কে নাগরিক হতে পারে, কীভাবে নাগরিকত্ব অর্জন করা যেতে পারে এবং কোন পরিস্থিতিতে তা হারানো যেতে পারে তা নির্ধারণ করে। বিচারপতি বলেন, “শুধুমাত্র আধার কার্ড, প্যান কার্ড বা ভোটার আইডির মতো নথি থাকলেই কেউ ভারতের নাগরিক হতে পারে না। এই নথিগুলি সনাক্তকরণ বা পরিষেবা গ্রহণের জন্য তৈরি, তবে এগুলি নাগরিকত্ব আইনে নির্ধারিত নাগরিকত্বের মৌলিক আইনি প্রয়োজনীয়তাগুলিকে অগ্রাহ্য করে না।”
হাইকোর্টের ওই বিশেষ বেঞ্চ বলেছে, আইনটি বৈধ নাগরিক এবং অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে একটি স্পষ্ট সীমারেখা টেনে দেয়। হাইকোর্ট আরও বলে, “অবৈধ অভিবাসীদের শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা নাগরিকত্ব আইনে উল্লিখিত বেশিরভাগ আইনি পথ দিয়ে নাগরিকত্ব পেতে বাধা পান। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে এবং নিশ্চিত করে যে নাগরিকদের জন্য প্রদত্ত সুবিধা এবং অধিকারগুলি যারা ভারতে থাকার কোনও আইনি মর্যাদা নেই তারা অন্যায়ভাবে জগাড় না করে”।
বেঞ্চ ওই অভিযুক্ত ব্যক্তির জামিন না দেওয়ার সময় উল্লেখ করে যে তার নথিপত্র যাচাই এখনও চলছে এবং তদন্তও এখনও অব্যাহত রয়েছে, এবং পুলিশের আশঙ্কা যে জামিন পেলে তিনি পলাতক হতে পারেন তা একটি প্রকৃত আশঙ্কা। মামলার অভিযোগগুলি ছোট নয় এবং এটি কেবল অনুমতি ছাড়া বা অতিরিক্ত সময় ধরে ভারতে থাকার বিষয়ে নয়, বরং এটি ভারতীয় নাগরিক হওয়ার ভান করার লক্ষ্যে জাল পরিচয়পত্র তৈরি এবং তার ব্যবহারের বিষয়।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, পাসপোর্ট (ভারতে প্রবেশ) আইন এবং বিদেশী আদেশের বিধান অনুসারে সর্দারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, ভূয়ো আধার কার্ডের বিষয়টি নিয়ে মামলার তদন্ত এখনও চলছে, যা ভারতের অনন্য পরিচয় কর্তৃপক্ষ (UIDAI) দ্বারা যাচাই করা হচ্ছে।
সর্দার তার জামিনের আবেদনে বলেছেন যে তিনি ভারতের একজন প্রকৃত নাগরিক এবং তিনি বাংলাদেশের নাগরিক তা প্রমাণ করার জন্য কোনও চূড়ান্ত বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। তিনি আরও দাবি করেছেন যে তার নথিগুলি তার আয়কর রেকর্ড এবং ব্যবসায়িক নিবন্ধনের সঙ্গে যুক্ত এবং তিনি ২০১৩ সাল থেকে মুম্বাইয়ের প্রতিবেশী থানে জেলায় বসবাস করছেন।
প্রসিকিউশন এই আবেদনের বিরোধিতা করে দাবি করেছে যে অভিযুক্তকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হলে তিনি পলাতক থাকতে পারেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে যে অবৈধ অভিবাসন এবং পরিচয় জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত কোনও বৃহত্তর সংগঠিত নেটওয়ার্ক আছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য তদন্ত চলছে। আদালত তার আদেশে উল্লেখ করেছে যে, সর্দারের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি কেবল অভিবাসন নীতিমালার কারিগরি লঙ্ঘনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে পরিচয় গোপন করা এবং ভারতীয় নাগরিকত্বের সুবিধা পাওয়ার জন্য জাল নথি তৈরির একটি মামলার ইঙ্গিত দেয়।
ভারতের সংবিধান প্রণয়নের সময়, দেশটি সবেমাত্র একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে এবং সেই সময়ে দেশভাগের ফলে সীমান্ত পেরিয়ে মানুষের ব্যাপক চলাচল শুরু হয়, যার ফলে নতুন জাতির নাগরিক হিসেবে কাদের গ্রহণ করা হবে তা নির্ধারণের প্রয়োজন তৈরি হয়, হাইকোর্ট বলেছে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে, সংবিধানের প্রণেতারা নাগরিকত্ব নির্ধারণের জন্য একটি ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, হাইকোর্ট বলেছে।
