নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোয় বিপর্যয়ের নেপথ্যে ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’ বলে যে ঘোষণা শোনা গিয়েছিল, তা কে করেছিলেন এবং কার নির্দেশে করা হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই রহস্যের জট কাটাতে ধৃত দুই ঘোষক সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টু এবং কুশল মজুমদার ওরফে কালিয়াকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে চাইছে পুলিশ। প্রয়োজনে তাঁদের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করা হতে পারে।
পুলিশ সূত্রে খবর, বিপর্যয়ের দিনের বেশ কিছু ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়েছে। তার মধ্যে একটি ভিডিয়োয় ভিড়ের মধ্যে ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’ বলে ঘোষণা শুনতে পাওয়া যায়। সেই ঘোষণার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহেই সেন্টু ও কালিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ঠিক কে ঘোষণা করেছিলেন এবং কে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা এখনও প্রকাশ্যে আনেনি পুলিশ।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সর্বশেষ গ্রেফতার হয়েছেন সেন্টু ও কালিয়া। সেন্টু আগেই পুলিশি হেফাজতে ছিলেন। শনিবার ব্যাঙ্কশাল আদালত কালিয়াকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
তদন্তকারীরা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলের বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেছেন। তাঁরা জানতে চাইছেন, সিসিটিভিতে যখন হুড়োহুড়ি শুরু হতে দেখা যাচ্ছে, তখন ঠিক কী ঘোষণা করা হচ্ছিল। বিশেষ করে হুড়োহুড়ি শুরুর আগে না পরে ওই ঘোষণা করা হয়েছিল, সেটা তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘোষণার মূল দায়িত্বে ছিলেন সেন্টু। তাই ঘটনাক্রম স্পষ্ট করতে দুই ঘোষককে মুখোমুখি বসানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
পাশাপাশি গলার স্বর নিশ্চিত করতে কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষার কথাও ভাবছে পুলিশ। এর জন্য আদালতের অনুমতি নিতে হয়। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, তদন্ত এগোলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
চোরবাগান-কাণ্ডের তদন্ত করছে দুটি দল। একটি কলকাতা পুলিশ, অন্যটি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে গঠিত সিট। ইতিমধ্যে মণ্ডপ পরিদর্শন করে তিনি জানিয়েছিলেন, প্রতিমা নিরঞ্জন করা গেলেও তদন্তের স্বার্থে মণ্ডপ রেখে দিতে হবে। শুক্রবার কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দও প্রতিমা নিরঞ্জনের অনুমতি দেন।
এদিকে শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশের উদ্যোগেই নিমতলা ঘাটে চোরবাগানের প্রতিমা নিরঞ্জন হয়। এদিন গোটা প্রক্রিয়ায় পুজো উদ্যোক্তাদের কাউকে দেখা যায়নি। শুক্রবারই মণ্ডপের গেটের কিছু অংশ কেটে প্রতিমা বের করার পথ তৈরি করা হয়েছিল। শনিবার দুপুরে ৩৬ জন মিলে প্রতিমা রাস্তায় বের করে আনেন। লরিতে তোলার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় শেষে লোহার কার্টে চাপিয়ে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ দিয়ে পুলিশি পাহারায় নিমতলা ঘাটে নিয়ে গিয়ে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়।