বিপ্লব দাশ : নবান্ন অভিযানের জেরে কলকাতার কয়েক ঘন্টা কার্যত স্তব্ধ হল। আর জি কর কাণ্ডে জন জীবনে এক বছর আগেকার ক্লেদ, ক্রোধ, যন্ত্রণা, আবেগ এবং থিতিয়ে পড়া প্রত্যাশকে উস্কে দিতে অভয়ার বাবা মায়ের ডাকে তৎপর হয়েছিল বিজেপি, বলা ভালো শুভেন্দু অধিকারীর তৎপরতায় বিজেপি। কলকাতা ও হাওড়ার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে এই অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। হলও। পুলিশও প্রস্তুত ছিল। সেটাও দেখা গেল। কিন্তু এই অভিযানের যে ছবি উঠে এল তা নিয়ে এবার শুরু হয়েছে কাটাছেঁড়া। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক অভিযান বা আন্দোলনে কেন এত রাজনৈতিক রঙ, রাজনৈতিক বিতর্ক, জবাব, পাল্টা জবাব এবং কখনো কখনো তাচ্ছিল্য ও প্রতিহিংসা; কেন এই সব উঠে এল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় একই দিনে অভয়াকে নিয়ে দুটি অভিযান। এক, অভয়ার বাবা-মায়ের ডাকে নবান্ন অভিযান। দুই, অভয়া মঞ্চের ডাকে কালীঘাট অভিযান। এখানেও বিভ্রান্তি ও কৌতুহল দুটোই কাজ করছে। সর্বপরি, উদ্দেশ্য যদি এক হয় তাহলে এই বিভেদ কেন ? এখানেই উঠে আসছে অরাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে রাজনৈতিক অভিসন্ধির তত্ত্ব। বাংলার সাধারণ মানুষ জেনেছিল অভয়া তাঁদের জাঈবনযাপনের নিরাপত্তাহীনতার প্রতীক। অভয়া হয়ে উঠেছিল তাঁদের গৃহকোণের অরক্ষিতা। তাই এক বছর আগে বিশ্ব দেখেছিল বাঙালির স্বতঃপ্রণোদিত জনজাগরণ। লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন, রাত জেগে বিচারের দাবি জানিয়েছিলেন। একবছর পর তার এই দ্বিখণ্ডিত রূপ দেখে অবশ্যই বিস্ময় জাগে। একই সঙ্গে হতাশ নিশ্চয়ই গেরুয়া ব্রিগেড। অভয়ার বাবা মাকে সামনে রেখে তাঁরা যে রাজনৈতিক হিসেব করেছিল, সেখানে লাভের খতিয়ান খুবই নগণ্য। বরং সাধারণ মানুষের কাছে অভয়া আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটা বিভ্রান্তিও তৈরি করে দিয়ে গেল এই নবান্ন অভিযান।
