নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস এখন এমন এক পরজীবীতে পরিণত হয়েছে যা কাউকে এগোতে দেয় না। গণতন্ত্রে সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়া এবং সংস্কারের জন্য আন্দোলন জরুরি, কিন্তু কংগ্রেস সেই আন্দোলনকেও নষ্ট করে দিচ্ছে।
কংগ্রেসের ভাবনা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “দিমাগি নকশালরা কংগ্রেসের মন-মস্তিষ্ক দখল করে নিয়েছে। তাদের নিজেদের ভাবার ক্ষমতা নেই। যারা একসময় জঙ্গলে ধ্বংস চালাত, তারাই এখন কংগ্রেসে ঢুকে দেশকে ধ্বংস করতে চাইছে।”
মোদীর আরও অভিযোগ, বিরোধী শিবিরের তরুণ নেতাদের কোণঠাসা করে কংগ্রেস শুধু একটি মুখকেই সামনে রাখতে চায়। অন্য কাউকে সুযোগ দেয় না, তরুণদের কথাও শোনে না।
এই আক্রমণের সময়টাও তাৎপর্যপূর্ণ। ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি এবং প্রতিবাদের উপর বিধিনিষেধ নিয়ে দিল্লিতে লাগাতার আন্দোলন করছে বিরোধীরা।
কংগ্রেস নেতৃত্বকে বারবার তুলে ধরার চেষ্টা নিয়ে কটাক্ষ করতে গিয়ে রকেট উৎক্ষেপণের প্রসঙ্গ টানেন মোদী। রসিকতার সুরে বলেন, “জানি না নিজেদের ব্যর্থ প্রোডাক্টকে লঞ্চ করতে কংগ্রেস আর কতদিন দেশের স্বার্থ বাজি রাখবে! এক বছরে শ্রীহরিকোটা থেকেও এত রকেট ওড়ে না, যতবার কংগ্রেস তাদের নেতাকে লঞ্চ করার ব্যর্থ চেষ্টা করে।” তাঁর আরও মন্তব্য, “নিজেদের পরিবারকে বাঁচাতে গিয়ে কংগ্রেস দেশের ভাবমূর্তিকেই কাঠগড়ায় তুলছে। অবস্থা এমন, আঙুর টক বলে গোটা গাছটাই কেটে ফেলতে চাইছে।”
অন্যদিকে এই মাসে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর আরও চড়িয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।
গত ৬ অক্টোবর রাহুল, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, ডেরেক ও’ব্রায়েন, অখিলেশ যাদব সহ ইন্ডিয়া জোটের নেতারা নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল করেন। পুলিশ আটকালে ধস্তাধস্তি হয়। তখন ব্যারিকেডে উঠে ‘জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ করেন রাহুল। পরে এক্স-এও লেখেন, সিইসি-র ইস্তফার সময় এসেছে।
১২ অক্টোবর ফের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিতে সুপ্রিম কোর্টের দিকে যান রাহুল, খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা, অখিলেশরা। তাঁদের অভিযোগ, ভোট চুরি হচ্ছে। যদিও কমিশনের বক্তব্য, ভুয়ো নাম বাদ দিয়ে যোগ্য ভোটারদের নাম নিশ্চিত করতেই এসআইআর করা হচ্ছে।
এই এসআইআর-এর বিরোধিতায় পথে নেমেছে আইসা সহ বিভিন্ন ছাত্র-যুব সংগঠন। তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় ১৩ কোটি যোগ্য ভোটারের নাম বাদ যেতে পারে। ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তর ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলায় বিক্ষোভকারীরা কনট প্লেস ও রাজঘাটে বিক্ষোভ দেখান। সেখানে কয়েকজন আন্দোলনকারী ও সাংবাদিককে আটক করে পুলিশ। যন্তর মন্তরে ধর্নায় বাধা এবং বিকল্প স্থানের জন্য ফি নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও এসএফআই, ডিওয়াইএফআই ও যুব কংগ্রেস আন্দোলন চালাচ্ছে।