ওঙ্কার ডেস্কঃ প্রজাতন্ত্র দিবস। ২৬ জানুয়ারি ভারতবাসীর কাছে গর্বের দিন, জাতীয় উৎসব। চলতি বছর ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করবে ভারত। ১৯৫০ সালের এই দিনে, সংবিধান কার্যকর হয়, যা ভারতকে একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ এবং গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে পরিণত করে। এই জাতীয় উৎসব ভারতের গণতান্ত্রিক ভিত্তি, তার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ ও বিবিধের মাঝে মিলনের বার্তা দেয়। দেশের প্রতিটি কোনায় প্রজাতন্ত্র দিবস পালিত হয়।
প্রজাতন্ত্র দিবসের উদযাপন শুধু দেশের ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা নয়, এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং ঐক্যকে জনসমক্ষে তুলে ধরে। রাজধানীতে আয়োজিত কুচকাওয়াজই এর মূল আকর্ষণ। সামরিক শৃঙ্খলা, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা, বিভিন্ন বাহিনীর প্রদর্শনী এবং ট্যাবলোতে দেশের ঐতিহ্য ও উন্নয়ন তুলে ধরা হয়।
প্রজাতন্ত্র দিবসের ইতিহাসও তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতা ও প্রজাতন্ত্র দিবসের মধ্যে ফারাক আছে। ভারত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয় ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ সালে, যখন দেশের সংবিধান কার্যকর হয়। স্বাধীনতা রাজনৈতিক মুক্তি এনে দিয়েছিল, আর প্রজাতন্ত্র দিবস ভারতকে দিয়েছে সংবিধানিক ও আইনি পরিচয়। পাশাপাশি ১৯৩০ সালের এই দিনেই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ‘পূর্ণ স্বরাজ’ ঘোষণা করেছিল। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিকে সম্মান জানাতেই এই দিনটিকে প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে নির্বাচন করা হয়। ভারতের সংবিধান প্রণয়ন করে গণপরিষদ। আর ড্রাফটিং কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন ড. বি. আর. আম্বেদকর। প্রায় তিন বছরের দীর্ঘ পরিশ্রমে তৈরি হয় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সংবিধান।
৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল ভাবনা “বন্দে মাতরম-এর ১৫০ বছর”। কুচকাওয়াজ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ট্যাবলো, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সংযোগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এবারের প্রজাতন্ত্র দিবস কুচকাওয়াজে প্রথমবার ভারতের সেনাবাহিনীর ব্যাটল অ্যারে ফরম্যাট প্রদর্শিত হয়। মোট ৩০টি ট্যাবলোতে দেশজুড়ে স্বাধীনতা, সমৃদ্ধি ও আত্মনির্ভর ভারতের ছবি ফুটে উঠেছে। সূত্রের খবর, প্রায় ২,৫০০ শিল্পী অংশ নিয়েছেন এই অনুষ্ঠানে এবং ১০,০০০ জন বিশেষ অতিথিকে আমন্ত্রিত ছিলেন।
