ওঙ্কার ডেস্ক: আমেরিকার একটি বিমান নিরাপত্তা সংস্থার সাম্প্রতিক দাবি ঘিরে নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার আহমেদাবাদগামী বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমান। সংস্থাটির বক্তব্য, যে বিমানটি পরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়, সেটিতে দীর্ঘদিন ধরেই একের পর এক প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দিচ্ছিল। এমনকি পরিষেবায় যোগ দেওয়ার প্রথম দিন থেকেই নানান যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক সমস্যার রেকর্ড ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ওই মার্কিন সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, বিমানের বিভিন্ন সিস্টেমে ঘনঘন গোলযোগ দেখা দিত। কখনও হঠাৎ করে সার্কিট ব্রেকার ট্রিপ করত, কখনও তারের ক্ষতি বা শর্ট সার্কিটের ঘটনা ঘটত। একাধিকবার বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি যন্ত্রাংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে। এমনকি ২০২২ সালে বিমানের একটি পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন প্যানেলে আগুন লাগার মতো গুরুতর ঘটনাও নথিভুক্ত ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এই ধরনের সমস্যার ফলে বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, শুধু এই নির্দিষ্ট বিমান নয়, বিশ্বজুড়ে বোয়িং ৭৮৭ মডেলের বিমানে হাজার হাজার প্রযুক্তিগত ত্রুটির রিপোর্ট জমা পড়েছে। তাদের মতে, এই সংখ্যাগুলি আসল সমস্যার কেবল সামান্য অংশমাত্র, প্রকৃত পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হতে পারে। তাই এই ধরনের বিমানগুলির রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আরও কড়া নজরদারি প্রয়োজন বলেও মত প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগ নিয়ে এখনও সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি বোয়িং সংস্থা। আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে তদন্তে সহযোগিতা করা হবে বলেই জানানো হয়েছে। ভারতীয় বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী সংস্থা এবং এয়ার ইন্ডিয়াও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে অনিচ্ছুক।
উল্লেখ্য, আহমেদাবাদ থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিকটবর্তী এক মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলে গিয়ে ধাক্কা মারে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এক জন বাদে প্লেনের সমস্ত যাত্রীর মৃত্যু ঘটে পাশপাশি মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলেও বহু ছাত্র প্রাণ হারান। এর আগে একাধিক বার দুর্ঘটনার কারন হিসাবে কখনও বিমান চালকের ভূমিকা কখনও যান্ত্রিক ত্রুটির কথা উল্লেখ করা হয়ে ছিল।
এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত এখনও চলছে। এর মধ্যেই বিমানের অতীতের একাধিক প্রযুক্তিগত ত্রুটির দাবি সামনে আসায় যাত্রী নিরাপত্তা এবং বিমান রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়, তবে এমন অভিযোগ নিঃসন্দেহে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বিমান চলাচল মহলে।
