ওঙ্কার ডেস্ক: অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রণামী চুরির প্রতিবাদে রামায়ণের সুন্দরকাণ্ড পাঠ করলেন অরবিন্দ কেজরীবালেরা। রবিবার দিল্লির রোহিণী এলাকার জাপানিস পার্কে সুন্দরকাণ্ড পাঠ করেন কেজরীবাল, মণীশ সিসৌদিয়া-সহ আম আদমি পার্টি (আপ)-র অন্য শীর্ষনেতারা। অযোধ্যার রামমন্দিরে ‘প্রণামী চুরি’ অত্যন্ত ‘লজ্জাজনক’— সরাসরি বলে দিলেন মন্দির নির্মাণ কমিটির প্রধান নৃপেন্দ্র মিশ্র৷ একই সঙ্গে তাঁর দাবি, হাল ফেরাতে মন্দিরের পরিচালন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও মজবুত করা হবে আগামী দিনে৷ এই প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নৃপেন্দ্র বলেন, ‘মন্দিরে যা ঘটেছে, তা খুবই লজ্জাজনক৷ আমরা সবাই এই ঘটনার জন্য শুধু দুঃখিতই নই, বরং অপমানিত এবং চূড়ান্ত হতাশ।’ সেই সঙ্গে চলতি মাসের মধ্যেই মন্দিরের নির্মাণকাজের বাকি থাকা অংশ পুরোটাই শেষ হয়ে যাবে বলেও দাবি করেন তিনি। প্রণামী চুরি বিতর্কের জেরে মন্দির পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানো চম্পত রাইয়ের পরিবর্তে কে স্থলাভিষিক্ত হবেন, সে ব্যাপারে যদিও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন নৃপেন্দ্র৷ প্রণামী চুরি বিতর্কে গোটা দেশে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে৷ এই আবহে নৃপেন্দ্রর এহেন মন্তব্য অত্যন্ত ইঙ্গিতবাহী বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনাচক্রে এই নৃপেন্দ্রই কিন্তু সেই প্রথম ব্যক্তি যিনি মন্দির পরিচালনার দায়িত্ব তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের হাত থেকে সরিয়ে ট্রাস্টের মাথায় মুখ্য কার্যনির্বাহী বা সিইও বসানোর কথা বলেছিলেন৷ কিন্তু চম্পত রাই কোথায়! সূত্রের দাবি, সংবাদমাধ্যমকে এড়ানোর লক্ষ্যেই জনসমক্ষে আসছেন না তিনি৷ তবে এখনও তিনি রয়েছেন অযোধ্যাতেই৷ ঘনিষ্ঠ মহলে তাঁর দাবি, উত্তরপ্রদেশ পুুলিশকে প্রণামী চুরির তদন্তে সহযোগিতা করার জন্যই তিনি বাইরে কোথাও যাবেন না৷ পুলিশি তদন্ত শেষ হওয়ার পরেই তিনি মিডিয়ায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন বলেও ঘনিষ্ঠ মহলে আভাস দিয়েছেন চম্পত রাই। এই আবহেই প্রণামী চুরির ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিজেপি, আরএসএস এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তীব্র নিশানা করেছে কংগ্রেস৷ ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি টাকা চুরির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মোদী কেন নীরব — প্রশ্ন তুলেছে তারা৷ শতাব্দীপ্রাচীন দলের সাধারণ সম্পাদক(সংগঠন) কে সি বেণুগোপালের অভিযোগ, ‘ভারতে কোনও তীর্থস্থানে এখনও পর্যন্ত এটা সব চেয়ে বড় লুটের ঘটনা৷ এর পরেও প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুরো নীরব৷ এই লুট দেশের কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাসে আঘাত হেনেছে৷ যে ভাবে শুধু ইউপি পুলিশের সিট–কে দিয়ে এই তদন্ত করা হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে প্রকৃত অপরাধীদের বাঁচানোই এদের আসল লক্ষ্য৷’ এই মর্মেই বেণুগোপাল জানিয়েছেন আসন্ন বাদল অধিবেশনে রামমন্দিরের প্রণামী চুরির ঘটনার প্রেক্ষিতে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির দাবি জানাবে কংগ্রেস৷ সংসদীয় সূত্রের দাবি, কংগ্রেসের এই দাবিতে সমর্থন জানাতে পারে বিরোধী শিবিরের অন্য সদস্যরাও। শনিবারই হিমাচল প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে রামমন্দিরের প্রণামী চুরির ঘটনা নিয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করা হয়েছে।