ওঙ্কার ডেস্ক: অসমে গত দু’বছরে মোট ১,৬৭৯ জন অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার অসম বিধানসভায় এই তথ্য তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি জানান, সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সেই অভিযানের ফলেই গত দু’বছরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি নাগরিককে আইনি প্রক্রিয়া মেনে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিদেশি ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যাঁদের বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং যাঁদের বিরুদ্ধে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেই প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেসব মামলার শুনানি এখনও আদালতে বিচারাধীন, সেই সব ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনও চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অর্থাৎ আইন অনুযায়ী সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেই প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই অসমে অবৈধ অনুপ্রবেশ একটি বড় প্রশাসনিক এবং নিরাপত্তাজনিত সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। তাই সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি পরিচয় যাচাই, বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে সরকার কাজ করছে। তিনি জানান, সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনওভাবেই বেআইনি অনুপ্রবেশ না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনকে আরও সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে মানবাধিকার এবং আইনি বিধান উভয় বিষয়ই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি যাচাই, বিদেশি ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত এবং আদালতের নির্দেশ অনুসরণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কোনও ব্যক্তিকে আইনবহির্ভূতভাবে ফেরত পাঠানো হচ্ছে না বলেও সরকার স্পষ্ট করেছে।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নজরদারি বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন। অসম সরকারের দাবি, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজ্যের জনসংখ্যাগত ভারসাম্য ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।