ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে ভারতকে। পদ্মাপারের বহু প্রতিক্ষিত জাতীয় নির্বচনে নয়া দিল্লি কোনো প্রতিনিধি পাঠাবে, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো সরকারি মন্তব্য করা হয়নি। ভারত ছাড়া আরও ১১ টি দেশও বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে নিজের প্রতিনিধি পাঠানোর কথা জানায় নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। অন্যদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মোট ৩৩০ টি দেশের প্রতিনিধি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষণের জন্য যাচ্ছেন সেকথাও প্রকাশ করেছেন ইউনূস সরকার।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে চলা এই নির্বাচনে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ঢাকার অন্তর্বর্তী সরকার। বাংলাদেশের তরফে নয়াদিল্লিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে খবর। সরকারি মহলের দাবি, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভোট গ্রহণ থেকে গণনা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা থাকবে নজরদারি ও মূল্যায়নে। ইতিমধ্যেই একাধিক দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা পর্যবেক্ষক পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও ঐতিহাসিক। অতীতে সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য, জ্বালানি ও যোগাযোগসহ নানা ক্ষেত্রে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের উপস্থিতি এই নির্বাচনে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কিন্তু বাংলাদেশের জুলাই বিক্ষোভের পর সেদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে আসার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক টানাপড়েনের মধ্যে ছিল। তারপর একের পর এক ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতি ঘটে। যদিও নয়াদিল্লি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি তারা পর্যবেক্ষক পাঠাবে কি না, তবে কূটনৈতিক স্তরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
এদিকে নির্বাচনের আগে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি যথেষ্ট উত্তপ্ত। বিরোধী দলগুলির একাংশ ভোট প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কোথাও কোথাও বিক্ষোভ, কর্মসূচি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনও দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সারা দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন মোতায়েন থাকবে। একই সঙ্গে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের বিশেষ অনুমতিও দেওয়া হবে, যাতে তারা স্বাধীনভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।
