ওঙ্কার ডেস্ক : দলের জাতীয় স্তরের পদাধিকারীদের মধ্যে বড় ধরনের রদবদলের কথা ঘোষণার ঠিক পরের দিনই, মঙ্গলবার বিজেপি ভোটমুখী উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব ও গুজরাটের জন্য নতুন রাজ্য ‘সেনাপতি’ নিয়োগ করল। এই নিয়োগ অবিলম্বেই কার্যকর হচ্ছে।
একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ও রাজ্যসভার সাংসদ বিনোদ তাওয়াড়েকে উত্তর প্রদেশের নতুন ইন-চার্জ হিসেবে নিয়োগ করেছেন। আগামী বছরের শুরুতেই নির্বাচন হতে যাওয়া এই রাজ্যের জন্য সহ-ইন-চার্জ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জাতীয় সম্পাদক জগদীশ ঈশ্বরভাই প্যাটেলকে।
পাঞ্জাবের ক্ষেত্রে দল জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ও রাজ্যসভার সাংসদ ড. সতীশ পুনিয়াকে রাজ্য ইন-চার্জ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে; অন্যদিকে, রাজ্যসভার সাংসদ ও বিজেপির জাতীয় সদর দপ্তরের দায়িত্বে থাকা তরুণ চুঘকে গুজরাটের ইন-চার্জ করা হয়েছে।
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়েছে, এই নিয়োগগুলি অবিলম্বে কার্যকর হবে। আরও জানানো হয়েছে, অন্যান্য রাজ্যের ইন-চার্জদের নিয়োগ যথাসময়ে করা হবে এবং নতুন নিয়োগের ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান ব্যবস্থাই বহাল থাকবে।
দলের সভাপতির নতুন জাতীয় দল ঘোষণার ঠিক পরের দিনই এই নিয়োগগুলো করা হল, যা তাঁর নেতৃত্বে একটি উল্লেখযোগ্য সাংগঠনিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। বিজেপির এই জাতীয় রদবদলে অভিজ্ঞ নেতা ও নতুন মুখ—উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ পদে সমন্বয় ঘটানো হয়েছে; এর মাধ্যমে দল ধারাবাহিকতা ও সাংগঠনিক নতুনত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে।
এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বিজেপি এখন রাজ্যস্তরের একাধিক রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। নতুন এই সাংগঠনিক নিয়োগের ফলে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও রাজ্য শাখাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সোমবার বিজেপির নতুন জাতীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই রদবদলে দলের বেশ কয়েকজন প্রবীণ নেতা গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব ধরে রেখেছেন বা নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন; পাশাপাশি অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বা তাঁরা দলে ফিরে এসেছেন।
পীযূষ গোয়েলকে দলের জাতীয় কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ভূমিকা এবং দলীয় সংগঠনে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে এই নিয়োগটি বিশেষ নজর কেড়েছে। রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজেকে দলের জাতীয় সহ-সভাপতি করা হয়েছে এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। স্মৃতি ইরানির পাশাপাশি রূপ কুমারী চৌধুরীকে ‘মহিলা মোর্চা’-র সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশেষ করে সেইসব রাজ্যে—যেখানে বিজেপি নিজেদের ভিত্তি প্রসারিত করতে আগ্রহী। সেখানে নারী-কেন্দ্রিক জনসংযোগ আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে নিয়োগের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।