ওঙ্কার ডেস্ক: কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম সংস্থা বা বিএসএনএল-এর বেসরকারিকরণের কোনও পরিকল্পনা সরকারের নেই। লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বিএসএনএল দেশের মানুষের সম্পত্তি এবং এটি জনগণের সেবার জন্যই কাজ করে যাচ্ছে ও ভবিষ্যতেও করবে।
এদিন সংসদে টেলিযোগাযোগমন্ত্রী সিন্ধিয়া জানান, সরকারের লক্ষ্য সংস্থাটিকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করে তোলা। তাঁর কথায়, “বিএসএনএলকে বিক্রি করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। বরং এটিকে পুনরুজ্জীবিত করে প্রতিযোগিতামূলক করে তোলাই আমাদের উদ্দেশ্য।” তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছরে সংস্থার পরিকাঠামো উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং তার ইতিবাচক ফলও পাওয়া যাচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিএসএনএলের গ্রাহক সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের মতে সংস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে ৪জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক ৪জি টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে এবং পরিষেবা আরও স্থিতিশীল করার কাজ চলছে। ৪জি পরিষেবা পুরোপুরি স্থিতিশীল হওয়ার পর ধাপে ধাপে ৫জি পরিষেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
সিন্ধিয়া আরও উল্লেখ করেন, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় দেশীয় প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করেই টেলিকম অবকাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে যেমন বিদেশি নির্ভরতা কমবে, তেমনই দেশের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা আরও জোরদার হবে। এদিকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মালা সীতারামন-ও সংসদে বিএসএনএলের পুনরুজ্জীবন প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখেন। তিনি জানান, সংস্থার উন্নয়নের জন্য একাধিক পুনরুজ্জীবন প্যাকেজে বিপুল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে পরিকাঠামো উন্নয়ন, স্পেকট্রাম বরাদ্দ এবং আর্থিক পুনর্গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে। বিএসএনএলকে বেসরকারিকরণের পথে না নিয়ে গিয়ে সরকারি মালিকানাতেই রেখে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত পরিষেবা এবং শক্তিশালী পরিকাঠামোর মাধ্যমে সংস্থাটিকে নতুন করে গড়ে তোলার দিকেই জোর দিচ্ছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক।
