ওঙ্কার ডেস্ক: দেশের হজযাত্রীদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের হজ যাত্রায় অংশ নিতে যাওয়া ভারতীয় পুণ্যার্থীদের জন্য নতুন করে ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত জমা দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে কেন্দ্রীয় হজ কমিটি। এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহল থেকে ধর্মীয় সংগঠন সব স্তরেই শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে বিমান জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং যাত্রাপথের পরিবর্তনের ফলে হজযাত্রীদের পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রক দাবি করেছে, বিমান সংস্থাগুলি প্রথমে আরও বেশি অর্থ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিলেও সরকারের হস্তক্ষেপে তা অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়েছে। শেষ পর্যন্ত পুণ্যার্থী পিছু অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে, যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে ব্যয় বৃদ্ধি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। তবুও সরকার চেষ্টা করেছে যাতে হজযাত্রীদের উপর অতিরিক্ত চাপ যতটা সম্ভব কমানো যায়। তাঁর বক্তব্য, হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বজায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক বোঝা চাপানোর সামিল। কংগ্রেসসহ একাধিক বিরোধী দল প্রশ্ন তুলেছে, যাত্রার একেবারে আগে কেন এই অতিরিক্ত খরচের কথা জানানো হল। তাদের দাবি, বহু পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক পরিকল্পনা করে হজযাত্রার প্রস্তুতি নেয়। শেষ মুহূর্তে এমন বাড়তি ব্যয় বহু মানুষের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
ধর্মীয় সংগঠনগুলির তরফেও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা হয়েছে। বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনের মতে, হজ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় কর্তব্য নয়, বহু মানুষের কাছে এটি আজীবনের স্বপ্ন। সেই যাত্রায় অতিরিক্ত অর্থের বোঝা চাপানো সাধারণ ও নিম্নবিত্ত মুসলিম পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন। অনেকেই মনে করছেন, এতে বহু সম্ভাব্য যাত্রীর পক্ষে হজে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আরও বড় বিতর্ক শুরু হয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি সরকারের মনোভাব নিয়ে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, এই ধরনের সিদ্ধান্ত সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছে। যদিও কেন্দ্র সরকার এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে নস্যাৎ করে জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত।