নয়াদিল্লি: ফের বিতর্কে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। মঙ্গলবার সকালে বন্ধ যন্তর মন্তরের গেট টপকে ভিতরে ঢুকে পড়েন দলের দুই যুগ্ম আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস। সঙ্গে ছিলেন আরও কয়েকজন সমর্থক। ভিতরে ঢুকে জাতীয় পতাকা মেলে ধরে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। খবর পেয়ে পুলিশ এসে আশুতোষ, সৌরভ এবং আরেক নেতা অজিঙ্ক শিন্দে সহ বাকিদের আটক করে। পুলিশ সূত্রে খবর, আইন ভাঙার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হতে পারে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ-এর কার্যালয়ের দিকের গেট টপকে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেন সিজেপি নেতারা। ঘটনাটি এমন দিনে ঘটল যেদিনই যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ নিষিদ্ধ করার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে এসেছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, যন্তর মন্তর আর প্রতিবাদস্থল হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না। তার বদলে রাজধানীতে তিনটি জায়গা নির্দিষ্ট করা হয়েছে — রামলীলা ময়দান, বুরারি মাঠ এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড। ১১ অক্টোবর এই নির্দেশিকা জারি হলেও তা প্রকাশ্যে আসে সোমবার। উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল দিল্লি পুলিশই যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থল হিসাবে নির্দিষ্ট করেছিল।
এই নিষেধাজ্ঞার পরেই সোমবার সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে সমাজমাধ্যমে লেখেন, “ওরা যন্তর মন্তরে আর প্রতিবাদ করতে দেবে না। এটা আর প্রতিবাদস্থল নয়, ভীরু একনায়কের জন্য যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে গিয়েছিল। এখন পুরো দেশই যন্তর মন্তর হবে।” তার পরের দিনই বন্ধ যন্তর মন্তরে ঢুকে পড়েন তাঁর দলের নেতারা।
সোমবারই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়েছিলেন সৌরভ ও আশুতোষ। পুলিশ অনুমতি না দিলে ফের বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তাঁরা।
ভোটে কারচুপি, এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে অবস্থানের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। তার আগে দিল্লিকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়। দিল্লিমুখী ২৪০টি ট্রেন বাতিল এবং ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়। শনিবার যন্তর মন্তরের কাছে কোনও জমায়েত করতে দেয়নি পুলিশ। যেখানেই জমায়েত হয়েছে সেখানেই ধরপাকড় চলেছে। এই অভিযানকে ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছে সিজেপি। সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ‘স্বৈরাচারী’ এবং জ্ঞানেশ কুমারকে ‘আসল দেশদ্রোহী’ বলেও আক্রমণ করেন তাঁরা।
কেন অনুমতি দেওয়া হয়নি, তা নিয়ে রবিবার ব্যাখ্যা দেন দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার নেহা যাদব। তিনি বলেন, গত জুলাই মাসে নিট প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে সিজেপিকে যন্তর মন্তরে অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তখন তাঁরা আইন মানেননি। জমায়েতে পাথর ছোড়া হয়েছিল, অস্ত্র আনা হয়েছিল এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হয়েছিল। সেই নজির এবং আইনশৃঙ্খলার কথা মাথায় রেখেই এবার অনুমতি দেওয়া হয়নি।