ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত হংসরাজ কলেজে সম্প্রতি এক অস্বাভাবিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও ছাত্র বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ তাঁর ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান কলেজ ক্যাম্পাসেই আয়োজন করায় ক্ষোভে ফুঁসছে পড়ুয়াদের বড় অংশ। একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহার করা কতটা যুক্তিযুক্ত সেই প্রশ্নেই সরব হয়েছে ছাত্রসমাজ।
কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন ধরেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। কলেজ প্রাঙ্গণে বড় বড় তাবু, আলোকসজ্জা, মঞ্চ, সাজসজ্জার সামগ্রী এবং অতিথিদের জন্য অস্থায়ী ব্যবস্থা তৈরি করা হয়। মূল ফটকের একাংশে আমন্ত্রিতদের প্রবেশের আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এমনকি কলেজের মাঠ ও খোলা জায়গাও অনুষ্ঠানস্থল হিসেবে সাজিয়ে তোলা হয় বলে অভিযোগ।
ছাত্রদের দাবি, এই প্রস্তুতির জেরে নিয়মিত পড়াশোনা ও সহপাঠ কার্যক্রম ব্যাহত হয়। যে মাঠে প্রতিদিন খেলাধুলো, অনুশীলন এবং বিভিন্ন কলেজ ইভেন্ট হওয়ার কথা, সেটি কয়েক দিন ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়। নির্ধারিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম স্থগিত বা অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়। অনেক পড়ুয়ার অভিযোগ, লাইব্রেরি ও একাডেমিক ব্লকে যাতায়াতেও অসুবিধা তৈরি হয়েছিল, কারণ নিরাপত্তার অজুহাতে কিছু অংশে প্রবেশে বিধিনিষেধ জারি করা হয়।
সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে কলেজের হস্টেল নিয়ে। ছাত্রদের বক্তব্য, যে হস্টেল দীর্ঘদিন ধরে ‘অপর্যাপ্ত পরিকাঠামো’ বা ‘সংস্কারের প্রয়োজন’ দেখিয়ে সাধারণ পড়ুয়াদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে, সেই হস্টেলের ঘরই নাকি বিয়ের অতিথিদের থাকার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষোভ আরও বাড়ে। তাঁদের প্রশ্ন, ছাত্রদের থাকার জায়গা নেই, অথচ ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের অতিথিদের জন্য সেই জায়গা খুলে দেওয়া হল কীভাবে?
এই পরিস্থিতিতে বহু ছাত্র একত্রিত হয়ে কলেজ চত্বরে বিক্ষোভ দেখান। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনও প্রতিবাদে শামিল হয়। তাঁদের দাবি, সরকারি অর্থে পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং এর ফলে কলেজের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। পাশাপাশি তাঁরা এই ব্যবহারের অনুমতি কীভাবে দেওয়া হল, সেই বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবিও তুলেছেন।
অন্যদিকে কলেজ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, অধ্যক্ষ কলেজ প্রাঙ্গণের ভেতরে নির্দিষ্ট সরকারি আবাসনে থাকেন এবং সেই কারণেই ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের কিছু অংশ ক্যাম্পাসে আয়োজন করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, এতে একাডেমিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়েই ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে ছাত্রদের একাংশ এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়। তাঁদের মতে, প্রশাসনের এই যুক্তি দ্বিচারিতা ছাড়া কিছু নয়, কারণ সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ থাকলেও কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল করা হয়েছে।
