ওঙ্কার ডেস্ক:দিল্লির সত্য নিকেতনে ছাত্রদের মেসবাড়ি ধসে পড়ার ঘটনায় দায় নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলল দিল্লি হাই কোর্ট। সাত পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনায় শুধু বাড়ির মালিককেই দায়ী করা যাবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে আদালতে। সোমবার মামলার শুনানিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ, ঘটনার দায় মেসবাড়ির মালিকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পুর কর্তৃপক্ষের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পড়ুয়াদের জন্য পর্যাপ্ত হস্টেল না থাকার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে আদালতের আলোচনায়।
ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্তে নেমে বাড়ির মালিক হরিরাম বনসলকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। উল্লেখ্য রবিবার মোতিবাগ এলাকার ওই পাঁচতলা মেসবাড়ি আচমকা ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়। আরও ১০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসেছে দিল্লি পুরসভা। পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানীতে চারতলার বেশি উচ্চতার অবৈধ নির্মাণগুলির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমন ভবন চিহ্নিত করে সিল করার কাজ শুরু হবে। বাড়িটি ভেঙে পড়ার পিছনে একাধিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম বেসমেন্টে চলা সংস্কারের কাজ। পাশাপাশি বৃষ্টির জল জমে যাওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ঘটনার আগে এলাকায় টানা কয়েক দিন বৃষ্টি হয়েছিল। মেসবাড়ির বেসমেন্টেও জল জমেছিল বলে জানা গিয়েছে। তারপরও সেখানে সংস্কারের কাজ চলছিল বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বেসমেন্টের একটি দেওয়াল ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছিল। এই কাজের অনুমতি ছিল কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। শুধু মালিক নয়। ঠিকাদার, ইঞ্জিনিয়ার এবং নির্মাণকাজে যুক্ত শ্রমিকদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ভবনটি প্রায় পাঁচ দশকের পুরনো। পুরসভার নথি অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশকে প্রায় ৪৯৫ বর্গফুট জমির উপর বাড়িটি নির্মিত হয়েছিল।
পুরসভার এক শীর্ষ আধিকারিকের দাবি, ভবনটির কোনও অনুমোদিত নকশা ছিল না। বেসমেন্টে যে নির্মাণ বা সংস্কারের কাজ চলছিল, তারও অনুমোদন নেওয়া হয়নি