ওঙ্কার ডেস্ক: হিমাচল প্রদেশের রাজধানী শিমলা-র একটি সরকারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, একটি পথকুকুরের মুখে ঝুলছে মানুষের কাটা পা। ঘটনাটি ঘটেছে অটল ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সুপার স্পেশালিটিজ-এ, যা রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৬১ বছর বয়সি এক রোগীর পা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে বাদ দেওয়া হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের পর সেই কাটা অঙ্গটি হাসপাতালের বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য সংরক্ষণ কক্ষে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে রাখা হয়। পরবর্তীতে তা নির্দিষ্ট বর্জ্য নিষ্পত্তি সংস্থার মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কক্ষের দরজা সঠিকভাবে বন্ধ করা হয়নি। সেই সুযোগেই একটি পথকুকুর ভিতরে ঢুকে কাটা পা মুখে করে বাইরে নিয়ে আসে।
ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে এমন গাফিলতির ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল নিয়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কুকুরটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করা হলেও সে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে কাটা অঙ্গটি উদ্ধার করা হয় বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক তদন্তে স্বীকার করেছে যে দরজা বন্ধ না রাখার কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সাফাইকর্মী ও তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা পুরো ঘটনার দায় নির্ধারণ করবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে তার জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে।
এই ঘটনায় রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্যস্তরে কঠোর নিয়ম থাকলেও তা বাস্তবায়নে ফাঁকফোকর থেকে যাচ্ছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালের বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তি না করলে তা জনস্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ঘটনাকে ঘিরে হিমাচল প্রদেশ-এর স্বাস্থ্য দফতরও রিপোর্ট তলব করেছে বলে জানা গিয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
