ওঙ্কার ডেস্ক: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর প্রথম বার প্রকাশ্যে নিজের সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। ওড়িশার ভুবনেশ্বরে একটি অনুষ্ঠানে পড়ুয়া ও শিক্ষকদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, নিট-সহ বিভিন্ন পরীক্ষা নিয়ে আন্দোলনের সময় দেশের তরুণ প্রজন্মকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। সেই পরিস্থিতিতে মন্ত্রিত্বের পদ আঁকড়ে না থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন বলে জানান প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘটনাকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নিট-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্নফাঁস, অনিয়ম এবং পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার জেরে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর উপর রাজনৈতিক চাপও বাড়ছিল। বিরোধী দলগুলির পাশাপাশি আন্দোলনকারী পড়ুয়া ও যুবসমাজের একাংশ তাঁর পদত্যাগের দাবি তুলেছিল। সেই আবহেই গত ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তবে পদত্যাগের পর এত দিন নিজের সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেননি ধর্মেন্দ্র।
ধর্মেন্দ্রের বক্তব্য, নিট-সহ বিভিন্ন পরীক্ষা নিয়ে আন্দোলনের সময় দেশের ‘জেন জি’ প্রজন্মকে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তাঁর মতে, এই প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই তাঁদের নিয়ে কোনও ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক বিভাজন তৈরি হোক, তা তিনি চাননি। তাঁর কাছে মন্ত্রীর পদ ধরে রাখার চেয়ে তরুণদের ভবিষ্যৎ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলেও জানান তিনি। এই যুব প্রজন্মই দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে বলে মনে করেন তিনি। এই তরুণদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরি হবে এবং তাঁরাই ভারতকে আরও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবে বলে তাঁর অভিমত। সেই কারণেই তাঁদের সুরক্ষার জন্যই তিনি এই সিধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে যাওয়ার পর অবশ্য ওড়িশায় তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তা কমেনি। বরং রাজ্যে ফিরে তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও দেখা দিয়েছে। ভুবনেশ্বর বিমানবন্দরের বাইরে তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানো হয় এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান ওঠে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বিজেডির ছাত্র ও যুব সংগঠনের সদস্যরা ছিলেন বলে জানা যায়। সেই বিক্ষোভের প্রসঙ্গও নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিজেকে কৃষকের সন্তান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁকে ‘গো ব্যাক’ বলা হলেও তিনি আবার ফিরে আসবেন।