ওঙ্কার ডেস্ক: কয়েক দিন নিখোঁজ থাকার পর ‘দেহ উদ্ধার’ হয়েছিল। বাড়ির লোক শনাক্ত করে মৃতদেহ কবর দিয়ে রীতি মেনে শেষকৃত্যও সম্পন্ন করেছিল। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে বাড়ি ফিরলেন সেই ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়খণ্ডের খুন্তি জেলায়।
রিপোর্ট অনুসারে, নিখোঁজ হওয়া ওই ব্যক্তির নাম বিশ্রাম মুন্ডা। সম্প্রতি বাড়ি থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে রামগড় এলাকায় গিয়েছিলেন একটি বিয়ে বাড়িতে যোগ দিতে। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। আত্মীয়রা পুলিশের দ্বারস্থ হন। পরে তদন্তকারীরা একটি মৃতদেহ উদ্ধার করেন। সেই মৃতদেহ বিশ্রামের বলে শনাক্ত করে বাড়িতে এনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন তাঁরা। কিন্তু কয়েক দিন পরে বিশ্রাম বাড়ি ফিরে আসেন।
খুন্তির মহকুমা পুলিশ আধিকারিক বরুণ রজক বুধবার সংবাদ মাধ্যম-কে জানান, পাত্রতোলি গ্রামের বাসিন্দা ৪৫ বছর বয়সী বিশ্রাম মুন্ডা গত ১০ মে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে যান। তিনি বলেন, ‘তাঁর পরিবার তাঁকে খুঁজে বের করার জন্য ব্যাপক তল্লাশি চালায়, কিন্তু তাঁর কোনো হদিস পায়নি। এর ঠিক একদিন পর, পুলিশ একটি নর্দমা থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে আত্মীয়রা খুন্তি সদর হাসপাতালে পৌঁছান এবং ওই মৃতদেহটিকে বিশ্রাম মুন্ডার মৃতদেহ হিসেবে শনাক্ত করেন।’ কিন্তু আদতে সেই মৃতদেহটি ছিল ভিন্ন ব্যক্তির।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহটির উচ্চতা, শারীরিক গঠন এবং মুখের আদল মুন্ডার সঙ্গে এতটাই হুবহু মিলে গিয়েছিল যে, পরিবারের সদস্য এবং গ্রামবাসীরা—উভয়েই—ওই মৃতদেহটিকে নিখোঁজ ব্যক্তির মৃতদেহ হিসেবেই ধরে নিয়েছিলেন। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর, পুলিশ মৃতদেহটি শেষকৃত্যের জন্য পরিবারের হাতে তুলে দেয় এবং উপজাতীয় প্রথা মেনে মৃতদেহটি দাফন করা হয়। ওই পুলিশ আধিকারিক বলেন, ‘দাফন করার কয়েক দিন পর, মুন্ডা হঠাৎ করেই খুন্তিতে তাঁর মেয়ের ভাড়া বাড়িতে এসে হাজির হন; তাঁর আকস্মিক আবির্ভাবে আত্মীয়রা হতবাক হয়ে যান।’ তিনি পরিবারের সদস্যদের জানান, কাউকে কিছু না জানিয়েই রামগড়ে গিয়েছিলেন। এদিকে মৃতদেহটি কবর থেকে তুলে ডিএনএ পরীক্ষার বন্দোবস্ত করছে পুলিশ। যাতে তাঁর সঠিক পরিচয় জানা যায়।