ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তারই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের বাজারেও। শনিবার থেকে দেশজুড়ে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দামে বড়সড় বৃদ্ধি করা হয়েছে। তেল বিপণন সংস্থাগুলির ঘোষণা অনুযায়ী, গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের পাশাপাশি বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দামও বাড়ানো হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৪.২ কেজির গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বেড়েছে। ফলে দিল্লিতে এই সিলিন্ডারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১৩ টাকা। অন্যদিকে মুম্বইয়ে এর দাম হয়েছে প্রায় ৯১২ টাকা, চেন্নাইয়ে ৯২৮ টাকার কাছাকাছি এবং কলকাতায় গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় ৯২৯ টাকা।
একই সঙ্গে ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দামও বাড়ানো হয়েছে। নতুন দামে দিল্লিতে এই সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় ১,৮৮৩ টাকা। কলকাতায় বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৯৯৫ টাকার কাছাকাছি। মূলত হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্যান্টিন এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে এই বাণিজ্যিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়াই এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে জ্বালানি সরবরাহের উপর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের উপর।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ। দেশের মোট এলপিজি চাহিদার একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সামান্য মূল্যবৃদ্ধি হলেও তার প্রভাব দ্রুত দেশীয় বাজারে পড়ে। তেল বিপণন সংস্থাগুলির মতে, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার পাশাপাশি পরিবহণ খরচও বেড়েছে, যার কারণে এলপিজির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত প্রায় এক বছরের মধ্যে গৃহস্থালি এলপিজির দামে এটিই দ্বিতীয় বড় বৃদ্ধি। এর আগে গত বছর এপ্রিল মাসেও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছিল। নতুন করে দাম বাড়ায় সাধারণ পরিবারের মাসিক খরচ আরও কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের উপর এর প্রভাব বেশি পড়বে বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
অন্যদিকে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়ায় হোটেল-রেস্তোরাঁ শিল্পেও চাপ বাড়তে পারে। অনেক ক্ষেত্রে খাবারের দাম বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।
তবে আপাতত পেট্রোল এবং ডিজেলের দামে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি বলে জানানো হয়েছে। তেল সংস্থাগুলির তরফে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
