ওঙ্কার ডেস্ক: বর্তমানে দেশের রাজনিতিতে কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপিকে টক্কর দেওয়ার মত ক্ষমতা রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো তথা বনাগ্লার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের, এমনটাই দাবি করলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর মিডিয়া উপদেষ্টা সঞ্জয় বারুর। সঙ্গে বর্তমানে দেশে কংগ্রেসের খামতির কথাও তুলে ধরেছেন তিনি, যা ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন জল্পনার সৃষ্টি করেছে।
এক সংবাদ মাধ্যমে নিজের লেখায় সঞ্জয় বারু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘স্বনির্মিত নেতা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উঠে এসে একাধারে একটি সর্বভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের প্রশাসন সামলানো সহজ বিষয় নয়। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে জাতীয় রাজনীতির ময়দানে স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বারু আরও উল্লেখ করেন, দেশে দীর্ঘ সময় ধরে কোনও মহিলা প্রধানমন্ত্রী দেখা যায়নি। এই প্রেক্ষাপটে একজন দৃঢ়চেতা ও প্রশাসনিক দক্ষতাসম্পন্ন নারী নেত্রীর উত্থান জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে বিরোধী জোট যদি একজন গ্রহণযোগ্য ও অভিজ্ঞ নেত্রীকে সামনে আনে, তবে তা ভোটের অঙ্কে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মত তাঁর।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই মন্তব্য নিছক ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হলেও তা বিরোধী শিবিরের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনাকে উসকে দিয়েছে। বর্তমানে জাতীয় স্তরে বিরোধী শক্তিগুলির মধ্যে নেতৃত্বের প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেকের মতে, বর্তমানে বিরোধী দলের অভ্যন্তরে বচসা দলের উপর সার্বিক ভাবে পরছে। রাহুল গান্ধীকে সামনে রেখে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যে আশাপ্রদ ফল পাওয়া যাচ্ছে না তা কোথাও গিয়ে কংগ্রেসের ভিতর থেকেই উঠে আসছে। তাই এবার বিকল্প পথে এগোনোর কথা ভেবে দেখার কথা বলা হচ্ছে, মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের। সেই আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সামনে আসা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক চর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তবে এই বক্তব্যকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন হিসেবে দেখা উচিত নয় বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এটি একজন প্রাক্তন উপদেষ্টার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ মাত্র। তবুও, জাতীয় রাজনীতিতে সম্ভাব্য নেতৃত্বের প্রশ্নে এই মন্তব্য যে নতুন করে বিতর্ক ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে, তা স্পষ্ট।
