ওঙ্কার ডেস্ক: গত ১০ নভেম্বর রাজধানী শহর দিল্লিতে লালকেল্লার কাছে প্রাণঘাতী বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। এই ঘটনার তদন্তভার হাতে নিয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। কারা এই হামলা চালিয়েছে তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। তবে এদিনের বিস্ফোরণের পর ফের চর্চায় উঠে এসেছে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি মাসুদ আজহারের নাম।
জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তা সত্ত্বেও পাকিস্তানের পাহারায় রয়েছে এই সন্ত্রাসী। ভারতে জঙ্গি কর্মকাণ্ড চালানো শীর্ষ পর্যায়ের অপরাধীদের তালিকায় মাসুদের নাম রয়েছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা মাসুদকে তাদের মাটিতে আশ্রয় দেয়নি বলে। যদিও বর্তমানে দিনের আলোর মতো স্পষ্ট, ইসলামাবাদের ছত্রছায়ায় মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে মাসুদ। সূত্রের খবর, লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত মাসুদ আজহার। ১০ নভেম্বর একটি হুন্ডাই আই২০ গাড়িতে বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় জইশ-ই-মহম্মদ জড়িত বলে সূত্রের দাবি।
কে এই মাসুদ আজহার?
৫৬ বছর বয়সী মাসুদ আজহার পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ এর প্রতিষ্ঠাতা। এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ভারতে একাধিক জঙ্গি হামলা চালিয়েছে। আইসি-৮১৪ বিমান হাইজ্যাকের সময় যাত্রীদের মুক্তির বিনিময়ে ভারত তাকে মুক্তি দিয়েছিল। মুক্তি পাওয়ার পর ১৯৯৯ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে মাসুদ আজহার এই জঙ্গি সংগঠনটি তৈরি করেছিল। পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুর থেকে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে জইশ ই মহম্মদ।
সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে একাধিক জঙ্গি হামলা চালিয়েছে মাসুদ আজহারের সংগঠন। ২০০১ সালে সংসদ হামলা, ২০০৮ সালের মুম্বই হামলা, ২০১৬ সালে পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলায় মাসুদ আজহার জড়িত ছিল। যে তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন দিল্লি বিস্ফোরণ। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছেন তদন্তকারীরা। যাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জইশের সঙ্গে যোগসাজেশ উঠে এসেছে।
সম্প্রতি মাসুদ আজহার পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের একটি মাদ্রাসায় ভাষণ দিয়েছিল। সেই ভাষণে মাসুদ ভারতের উপর আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিল। সে ঘোষণা করেছিল, জইশ-ই-মহম্মদ জম্মুকাশ্মীরে সংগঠিত ভাবে আক্রমণ বাড়াবে বলে। এর পর নয়াদিল্লির তরফে পাকিস্তানকে বার্তা দেওয়া হয়, আজহার এবং জইশ-ই-মহম্মদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। কিন্তু ইসলামাবাদ জঙ্গি মাসুদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি। উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল জম্মুকাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানে অপারেশন সিঁদুর অভিযান চালিয়েছিল ভারতের সেনাবাহিনী। সেই অভিযানে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নয়টি জায়গায় জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে দিয়েছিল ভারতীয় সেনা। বাহাওয়ালপুরের জামিয়া মসজিদ সুবহানআল্লাহ সেই ঘাঁটিগুলির মধ্যে ছিল। এই হামলায় মাসুদের পরিবারের অন্তত ১০ জন সদস্য নিহত হয় সে সময়। তবে প্রাণে বেঁচে যায় মাসুদ আজহার।
