ওঙ্কার ডেস্ক: তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এবারের বিধানসভা নির্বাচন এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দীর্ঘদিনের দ্রাবিড় রাজনীতির জমিতে অভিনেতা বিজয়ের দল টিভিকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য রাজনৈতিক মহলে বড় চমক তৈরি করেছে। আর এই উত্থানের নেপথ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন দেশের পরিচিত নির্বাচনী কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর।
বিহারে নিজের রাজনৈতিক দল জন সুরাজ প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর অনেকেই মনে করেছিলেন প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক প্রভাব কমতে শুরু করেছে। তবে তামিলনাড়ুতে বিজয়ের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি ফের প্রমাণ করলেন, নির্বাচনী রণকৌশলে তাঁর দক্ষতা এখনও অটুট। টিভিকে-র রাজনৈতিক যাত্রার শুরু থেকেই প্রশান্ত কিশোরের টিম সংগঠন গড়ে তোলা, ভোটারদের মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণ এবং কার্যকর প্রচার কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নেয়।
বিজয়ের বিপুল জনপ্রিয়তাকে শুধুমাত্র তারকা প্রভাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করাই ছিল মূল লক্ষ্য। তাঁর বিশাল ফ্যানবেসকে বুথস্তরে সংগঠিত করা, যুব সমাজকে সরাসরি যুক্ত করা এবং রাজ্যের প্রচলিত রাজনৈতিক শক্তির বাইরে বিকল্প নেতৃত্বের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা, কর্মসংস্থান, উন্নয়ন এবং স্বচ্ছ প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি টিভিকে-র প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রশান্ত কিশোরের পরিকল্পনায় বিজয়ের জনসভা, ডিজিটাল প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার এবং গ্রাসরুট পর্যায়ের সংগঠন সব ক্ষেত্রেই আধুনিক ও সুসংহত কৌশল নেওয়া হয়। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই টিভিকে রাজ্যের রাজনীতিতে শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে উঠে আসে। নির্বাচনের ফলাফলে সেই কৌশলের প্রতিফলন স্পষ্ট হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রশান্ত কিশোর এই নির্বাচনে শুধু একজন কৌশলবিদ হিসেবেই কাজ করেননি, বরং বিজয়ের রাজনৈতিক পরিচিতি নির্মাণেও বড় ভূমিকা নিয়েছেন। তাঁর পরামর্শে বিজয় নিজেকে শুধুমাত্র চলচ্চিত্র তারকা নয়, বরং জনমুখী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন।
তামিলনাড়ুর এই ফলাফল আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্ব এবং বিকল্প শক্তির উত্থানে সঠিক কৌশল কতটা কার্যকর হতে পারে, তার বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে টিভিকে-র সাফল্য। একইসঙ্গে প্রশান্ত কিশোরও ফের জাতীয় স্তরে নির্বাচনী রাজনীতির অন্যতম সফল কৌশলবিদ হিসেবে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করলেন।