ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন ভবানীপুরের সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গভর্নমেন্ট গার্লস’ কলেজে অবস্থিত গণনাকেন্দ্র ঘিরে তৈরি হল চরম উত্তেজনা ও রাজনৈতিক চাঞ্চল্য। রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফলাফল ঘিরে সকাল থেকেই তৃণমূল ও বিজেপি দুই শিবিরের নজর ছিল তীব্রভাবে কেন্দ্রীভূত। তবে ভোটগণনার মাঝেই নির্বাচন কমিশনের কড়া নিরাপত্তা ও বিধিনিষেধ নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়।
নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী গণনাকেন্দ্রের ভিতরে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। সেই নিয়ম মেনেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোবাইল ফোনও বাইরে জমা রাখতে বলা হয়। একইভাবে বিজেপি পক্ষের প্রতিনিধি শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর করা হয়।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কমিশনের আধিকারিকরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শুধুমাত্র অনুমোদিত প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট বা নির্দিষ্ট অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই ভিতরে থাকতে পারবেন। ফলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গণনাকেন্দ্রের বাইরে যেতে বলা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলেও কমিশন নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে।
ভবানীপুরের মতো হাইপ্রোফাইল কেন্দ্রে প্রতিটি রাউন্ডের গণনা ছিল অত্যন্ত স্পর্শকাতর। রাজনৈতিক মহলের মতে, এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন কোনওরকম বিশৃঙ্খলা, প্রভাব খাটানো বা নিয়মভঙ্গের অভিযোগ এড়াতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সার্বিকভাবে, ভোটগণনার দিন ভবানীপুরে শুধুমাত্র ফলাফল নয়, নির্বাচন কমিশনের কঠোর নিয়ম প্রয়োগও বড় রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।