ওঙ্কার ডেস্ক: কালবৈশাখীর পূর্বাভাস ছিল, গেরুয়া ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হল বাংলা। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ইতিহাস লিখল বঙ্গবাসী। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়ে বিজেপিকে বাংলার মসনদে বসার ছাড়পত্র দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। বুথফেরত সমীক্ষার রিপোর্টকে সত্যি করে বঙ্গে ক্ষমতায় বসতে চলেছে বিজেপি। প্রাথমিক প্রবণতা অনুসারে, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৯৩ আসনের মধ্যে ২০৪ আসনে এগিয়ে রয়েছে পদ্ম শিবির। ৮৩ আসন পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুসারে, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই আসনে এগিয়ে রয়েছেন বাংলার বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরে নিজের গড় রক্ষা করতে পারলেও জোড়াফুল শিবিরের হেভিওয়েট প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। সোমবার পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, সোহম চক্রবর্তী, শশী পাঁজা, শ্রেয়া পাণ্ডেরা। গণনার প্রবণতায় পিছিয়ে রয়েছেন ব্রাত্য বসু, অরূপ বিশ্বাস এবং রত্না চট্টোপাধ্যায়। বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের দুই কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছিলেন। নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর দুই কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুর কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারী পিছিয়ে থাকলেও নন্দীগ্রামে ৯ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন তিনি।
স্বাধীন ভারতবর্ষের ইতিহাসে বঙ্গে এই প্রথম ক্ষমতার কুর্সিতে বিজেপি। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সোমবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে! ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জনগণের শক্তির জয় হয়েছে এবং বিজেপির সুশাসনের রাজনীতি জয়ী হয়েছে। আমি পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রণাম জানাই।’ সেই সঙ্গে মোদী আরও লিখেছেন, ‘মানুষ বিজেপিকে এক অভূতপূর্ব রায় দিয়েছেন। আমি আশ্বাস দিচ্ছি, আমাদের দল পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করবে। আমরা এমন একটি সরকার গঠন করব যা সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষের সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।’