ওঙ্কার ডেস্ক: গত রবিবার পাঞ্জাবের গুরুদাসপুরে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় দুই পুলিশ সদস্যকে খুন করা হয়েছিল। এই ঘটনার তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেলেন গোয়েন্দারা। ভারতীয় পুলিশ আধিকারিকদের খুনের পিছনে রয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এর হাত। বুধবার পাঞ্জাব পুলিশের এক উচ্চ পদস্থ কর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রের খবর, আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে গুরুদাসপুরের আধিয়ান গ্রামে দোরাংলা পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর গুরনাম সিং এবং হোমগার্ড অশোক কুমার। সেখান থেকেই দুজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয় রবিবার। ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (বর্ডার রেঞ্জ) সন্দীপ গোয়েল গুরুদাসপুরে সাংবাদিকদের বুধবার বলেন, ‘পাকিস্তানের আইএসআইয়ের নির্দেশে অভিযুক্তরা পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছে। গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায়, তারা পুলিশ কর্তাদের হত্যার আগে রেকি করেছিল। টাকার জন্য তারা আইএসআইয়ের নির্দেশে এই কাজ করেছিল।’ পুলিশ জানিয়েছে, ২০,০০০ টাকার বিনিময়ে এই হত্যাকাণ্ডটি করা হয়েছে। দুই পুলিশ আধিকারিককে খুনের ঘটনায় জড়িত তিন অভিযুক্তের মধ্যে এক জনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আরেক অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে এনকাউন্টারে। তৃতীয় অভিযুক্ত এখনও পলাতক। তাকে ধরতে অভিযান জারি রেখেছেন তদন্তকারীরা। এই হত্যাকাণ্ডে যে তিন জন জড়িত তাদের নাম রঞ্জিত সিং (১৯), ইন্দ্রজিৎ সিং (২১) এবং দিলওয়ার সিং (১৯)। প্রথম দুজন আধিয়ান গ্রামের বাসিন্দা। অন্য দিকে দিলওয়ার আলিনাঙ্গল গ্রামের বাসিন্দা।
উল্লেখ্য, ঘটনার দিন ডোরাংলা থানার আধিকারিক গুরনাম সিং এবং অশোক কুমারকে ফোন করেন। কিন্তু কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি বিষয়টি আধিয়ান গ্রামের প্রধান কমলজিৎ সিংকে জানান। এর পর কমলজিৎ চেকপোস্টে গিয়ে এএসআই এবং হোমগার্ডকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পুলিশ জানিয়েছে, এএসআই-এর মৃতদেহ একটি চেয়ারে পাওয়া গেছে, অন্য দিকে হোমগার্ড একটি খাটের উপর নিথর অবস্থায় পড়ে ছিলেন।
