ওঙ্কার ডেস্ক: দেশে সস্তা ইস্পাত আমদানির লাগাম টানতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। নির্দিষ্ট কিছু ইস্পাত পণ্যের উপর নতুন করে আমদানি শুল্ক বা সেফগার্ড ডিউটি আরোপের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। সরকারের দাবি, বিদেশ থেকে কম দামে ইস্পাত ঢুকে পড়ায় দেশের ইস্পাত শিল্প ক্ষতির মুখে পড়ছিল। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই সিদ্ধান্ত।
বাণিজ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই শুল্ক মূলত সেই সব ইস্পাত পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যেগুলির আমদানি সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে চিন, ভিয়েতনাম এবং কয়েকটি প্রতিবেশী দেশ থেকে বিপুল পরিমাণে কম দামে ইস্পাত ভারতে আসছিল। এর ফলে দেশের ইস্পাত উৎপাদক সংস্থাগুলি বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সমস্যায় পড়ছিল বলে অভিযোগ। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে দেশীয় সংস্থাগুলি কিছুটা স্বস্তি পাবে বলে মনে করছে সরকার।
এই সেফগার্ড ডিউটি তিন বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। প্রথম বছরে শুল্কের হার তুলনামূলক বেশি রাখা হয়েছে, পরবর্তী দুই বছরে ধাপে ধাপে তা কমানো হবে। সরকারের বক্তব্য, এতে একদিকে যেমন দেশীয় শিল্প সুরক্ষা পাবে, তেমনই ধীরে ধীরে বাজারকে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব হবে। তবে নির্দিষ্ট কিছু বিশেষ ধরনের ইস্পাত এবং উন্নয়নশীল কয়েকটি দেশকে এই শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
এর আগে অস্থায়ী ভিত্তিতে কিছু ইস্পাত পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের পর দেশীয় ইস্পাত শিল্প থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। এবার স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে শিল্পকে আরও মজবুত করার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তে দেশীয় ইস্পাত উৎপাদন বাড়তে পারে এবং কর্মসংস্থানের উপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে আমদানিকারক ও কিছু শিল্প মহলের একাংশের আশঙ্কা, এই শুল্কের প্রভাব শেষ পর্যন্ত নির্মাণ ও পরিকাঠামো খাতে পড়তে পারে, কারণ ইস্পাতের দাম কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার যদিও আশ্বস্ত করেছে, বাজার পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হবে এবং প্রয়োজনে ভবিষ্যতে নীতি পর্যালোচনা করা হতে পারে। সব মিলিয়ে, দেশীয় শিল্প সুরক্ষার প্রশ্নে আরও এক ধাপ এগোল কেন্দ্র, এমনটাই মনে করছেন অর্থনৈতিক মহলের একাংশ।
