ওঙ্কার ডেস্ক: চলতি মাসের শুরুতেই ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যত্তম ফাইটার জেট তেজস্ দুর্ঘটনার কবলে পরেছিল বলে সুত্রের খবর। সেনাঘাঁটিতে অবতরনের সময় ব্রেক ফেলের কারণে রানওয়েতে আছড়ে পরে বিমানটি। দুর্ঘটনার আঁচ করতে পেরে পাইলট বিমান থেকে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে বেঁচে যান। এই দুর্ঘটনা নিয়ে ভারতীয় বায়ু সেনা থেকে কোন সরকারি বিবৃতি এখনও প্রকাশ করা হয়নি। সংবাদ মাধ্যম পিটিআই তাদের নিজস্ব প্রতিবেদনে এই তথ্য দাবী করেছে।
পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ৭ তারিখে সামরিক মহড়ার সময় রানওয়ে তে অবতরনের সময় যান্ত্রিক গলযোগ ঘটে ওই তেজস্ বিমানে। জানা গিয়েছে, বিমানঘাঁটিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড়ান শেষে নামার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। অবতরণের সময় বিমানের ব্রেকিং সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটি রানওয়ে অতিক্রম করে যায় বলেই প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় পাইলট জরুরি প্রোটোকল মেনে নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তাঁর কোনও শারীরিক আঘাত লাগেনি বলে প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট বিমানঘাঁটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিমানটি ঘিরে বিস্তারিত প্রযুক্তিগত পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বিমানটির কাঠামোগত অংশে বড়সড় ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানা গিয়েছে। ফলে সেটিকে মেরামত করা সম্ভব হবে কি না, নাকি সম্পূর্ণভাবে বাতিল ঘোষণা করতে হবে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর ভারতীয় বায়ু সেনা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তেজসের একক আসনের বহর সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিটি বিমানের ব্রেকিং ও ল্যান্ডিং সিস্টেম বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে একই ধরনের ত্রুটি অন্য কোনও বিমানে না থাকে তা নিশ্চিত করা যায়। উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে, যারা দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করবে।
তেজস যুদ্ধবিমানটি দেশের নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত এবং এটি তৈরি করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই যুদ্ধবিমান ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তি বৃদ্ধি করেছে এবং ধাপে ধাপে আরও উন্নত সংস্করণ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পরপর কয়েকটি দুর্ঘটনার জেরে প্রকল্পের নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
প্রতিরক্ষা মহলের একাংশের মতে, এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক হলেও তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। আপাতত বায়ুসেনার অগ্রাধিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় সবরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
