নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচি রুখতে গত শনিবার দিল্লি জুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল পুলিশ। রাজধানীকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়। এর জেরে প্রায় ২০০০ কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ী ও আইনজীবীদের সংগঠনের তরফে আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে, সভা-সমাবেশের জন্য দিল্লি পুলিশ যে নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করেছে, সেখানে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা এসওপি যেন কঠোরভাবে মানা হয়। মঙ্গলবার হাইকোর্ট ওই আবেদনগুলি জরুরি ভিত্তিতে শোনার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে।
এদিন মামলাকারীদের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী সচিন পুরী। তিনি বলেন, “আমরা চাই নির্দিষ্ট বিধি কার্যকর হোক। সুপ্রিম কোর্টেরও সেটাই নির্দেশ। আমাদের ন্যূনতম অধিকার রক্ষা করা হোক।” কেন্দ্রের তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা জানান, দিল্লির বিক্ষোভ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা চলছে। তবে হাইকোর্টে শুনানি নিয়ে তিনি কোনও আপত্তি তোলেননি।
প্রসঙ্গত, ভোটে কারচুপি, এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে অবস্থান বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। তার আগেই বিক্ষোভ আটকাতে বড় পদক্ষেপ করে প্রশাসন। দিল্লিগামী ২৪০টি ট্রেন বাতিল করা হয় এবং বন্ধ করে দেওয়া হয় ৪৫টি মেট্রো স্টেশন।
শনিবার যন্তর মন্তরের আশপাশে কাউকে ঘেঁষতে দেয়নি পুলিশ। জমায়েত দেখলেই আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় ডিটেনশন ক্যাম্পে। এই ধরপাকড়কে ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছে সিজেপি। সাংবাদিক বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে আক্রমণ করেন সংগঠনের নেতা সৌরভ ও আশুতোষ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘আসল দেশদ্রোহী’ বলেও কটাক্ষ করেন তাঁরা।