ওঙ্কার ডেস্ক: ভেজাল দুধ থেকে বিষক্রিয়া। আর তার জেরে প্রাণ হারালেন ১৩ জন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৭ জন। ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্ব গোদাবরী জেলায়। ইতিমধ্যে এই ঘটনার তদন্তে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।
রিপোর্ট অনুসারে, অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্ব গোদাবরী জেলার লালাচেরুভুর এবং স্বরূপনগর এলাকায় একের পর এক মানুষ প্রাণ হারাতে থাকেন। কারণ হিসেবে উঠে আসে, দুধে ভেজালের বিষয়টি। গত ২২ ফেব্রুয়ারি প্রথম সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। ওই দিন বেশ কয়েক জন বয়স্ক লোকজন বমি, পেটব্যথার সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাড়ি বাড়ি যে দুধ সরবরাহ করা হচ্ছিল, তা খেয়েই অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁরা।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ব্যক্তিদের বিভিন্ন পরীক্ষা নীরিক্ষা করা হয়। তাতেই চিকিৎসকরা জানতে পারেন, তাঁদের রক্তে ইউরিয়ার মাত্রা অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। শরীরে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, বিষক্রিয়ার ফলে এমনটা হয়ে থাকতে পারে। প্রাথমিক তদন্তে ওই দুধকেই বিষক্রিয়ার উৎস হিসাবে চিহ্নিত করছেন আধিকারিকরা। অনুসন্ধান জানা গিয়েছে, স্থানীয় একটি ডেয়ারি ফার্ম থেকে গ্রামবাসীরা দুধ নেন। সব মিলিয়ে দুধ গ্রাহক পরিবারের সংখ্যা ১০৬। ওই ডেয়ারি ফার্মের দুধ খেয়ে মানুষ অসুস্থ হয়েছেন বলে অনুমান স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের। ১৩ জনের মৃত্যুর পর এলাকায় স্বাস্থ্যশিবির চালু করা হয়েছে। গ্রামে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর পাশাপাশি চিকিৎসক-নার্সদেরও পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজরদারির জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়েছে। সেই দলে যেমন জেলা আধিকারিক রয়েছেন তেমনই মাইক্রোবায়োলজিস্ট, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, নেফ্রোলজিস্ট এবং মহামারি বিশেষজ্ঞদেরও রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে ডেয়ারি ফার্ম থেকে বিশেষজ্ঞ দলটি একাধিক নমুনা সংগ্রহ করেছে।
