ওঙ্কার ডেস্ক: রাজধানী দিল্লির দ্বারকা এলাকায় ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ২৩ বছর বয়সি যুবক সাহিল ধানেশ্রাল। অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর প্রায় দশ মিনিট রাস্তায় পড়ে যন্ত্রণায় ছটফট করলেও কোনও পথচারী এগিয়ে আসেননি তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে। পরিবারের দাবি, সময়মতো চিকিৎসা পেলে হয়তো প্রাণ বাঁচানো সম্ভব ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে গভীর রাতে। একটি এসইউভি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি ট্যাক্সিকে ধাক্কা মারে, তারপর সজোরে সাহিলের মোটরবাইকে আঘাত করে। সংঘর্ষের অভিঘাতে তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, গাড়িটি দ্রুতগতিতে চলছিল। পরে জানা যায়, এসইউভিটি চালাচ্ছিল এক নাবালক, যার বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না।
পরিবারের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর গুরুতর জখম অবস্থায় সাহিল রাস্তায় পড়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলেন। তাঁর পরনের জ্যাকেট ছিঁড়ে যায়, শরীর রক্তাক্ত হয়ে পড়ে ছিল। আশপাশে লোকজন উপস্থিত থাকলেও কেউ তাঁকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেননি। কিছু সময় পর পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন এবং তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে মাথায় গুরুতর আঘাত, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও শরীরের একাধিক স্থানে চোটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, উচ্চগতির ধাক্কার ফলেই এই প্রাণঘাতী আঘাত লাগে।
তদন্তে নেমে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত নাবালকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে। গাড়িটির বিরুদ্ধে আগেও একাধিক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল বলে জানা গেছে। তবে অভিযুক্তকে অস্থায়ী জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মৃতের পরিবার। তাদের দাবি, এ ধরনের ঘটনায় কঠোর শাস্তির প্রয়োজন, নাহলে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর প্রবণতা কমবে না।
