ওঙ্কার ডেস্ক: পঞ্জাবে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জালন্ধর ও অমৃতসরে পরপর বিস্ফোরণের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের এক মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টি এবং নির্বাচনের আগে ভয়ের পরিবেশ গড়ে তুলতেই বিজেপি এই বিস্ফোরণগুলির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর এই বিস্ফোরক দাবি সামনে আসতেই বিরোধী শিবিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।
বিজেপি নেতৃত্ব ভগবন্ত মানের বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে। দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক তরুণ চুঘ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, মানহানি এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অভিযোগে মামলা দায়েরের দাবি জানান। তিনি মানকে আইনি নোটিস পাঠিয়ে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ হাজির করতে বলেন, অন্যথায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ারও দাবি তোলেন। বিজেপির বক্তব্য, একজন মুখ্যমন্ত্রীর পদে থেকে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া জাতীয় রাজনৈতিক দলকে সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত গুরুতর বিষয়, যা প্রশাসনিক দায়িত্ববোধের পরিপন্থী।
পঞ্জাব বিজেপি সভাপতি সুনীল জাখড়ও মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের মন্তব্য রাজ্যের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলার অবনতির দায় এড়াতেই মুখ্যমন্ত্রী রাজনৈতিক অভিযোগ তুলে জনমত ঘোরানোর চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় সংস্থার মাধ্যমে বিস্ফোরণগুলির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। অন্যদিকে বিরোধী কংগ্রেসও এই ইস্যুতে প্রশ্ন তোলে। তাদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ এবং পুলিশের সরকারি তদন্তের অবস্থানের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়াচ্ছে। কংগ্রেসের মতে, এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে রাজনৈতিক দোষারোপের পরিবর্তে নিরপেক্ষ তদন্তই হওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পঞ্জাবের জালন্ধর ও অমৃতসরে নিরাপত্তা বাহিনীর দফতরের নিকটে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা গোটা রাজ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে। পুলিশ ইতিমধ্যেই সন্ত্রাসবাদ, ষড়যন্ত্র ও খুনের চেষ্টার মতো গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলিও গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
এই পরিস্থিতিতে পঞ্জাবের রাজনৈতিক আবহ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করা, অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা আইনি ও রাজনৈতিক চাপ সব মিলিয়ে বিস্ফোরণ-কাণ্ড এখন শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বড় রাজনৈতিক সংঘর্ষে পরিণত হয়েছে। আগামী দিনে তদন্তের অগ্রগতি এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এই বিতর্ককে আরও কোন দিকে নিয়ে যায়, সেদিকেই নজর থাকবে।