ওঙ্কার ডেস্ক: নয়ডার গৃহবধুকে পুরিয়ে মারার ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল গোটা দেশ। অভিযোগ ছিল বছর ২৬ এর নিক্কি ভাটিকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোক পণের দায়ে মারধর করত এবং শেষ পর্যন্ত নিক্কির ছেলের সামনেই তাঁর গায়ে আগুন লাগিয়ে মেরে ফেলেছিল। এর সাপেক্ষে একাধিক প্রমাণ সামনে এসেছিল সমাজ মাধ্যমে। রাগে ক্ষোভে নিক্কির শ্বশুরবাড়ির লোকের এনকাউন্টারের দাবিও তোলেন নিক্কির বাবা ভিখারি সিং। এবার নিক্কির পরিবারের বিরুদ্ধেও পণ নেওয়ার এবং অত্যাচারের মুখ খোলেন নিক্কির বৌদি মিণাক্ষী।
নয়ডা গৃহবধু হত্যার শিকার নিক্কি ভাটির বৌদি মীনাক্ষীর বাড়ি পল্লা গ্রামে। ২০১৬ সালে তাঁর বিয়ে হয় নিক্কির দাদা রোহিত ভাটির সঙ্গে। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সময় তাঁর বাপের বাড়ি থেকে একটি মারুতি সুজুকি সিয়াজ গাড়ি পণ হিসেবে দেওয়া হয়। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকেরা গাড়িটিকে অশুভ বলে বিক্রি করে দেয়। পরে তারা নতুন মডেলের একটি স্করপিও গাড়ি ও নগদ টাকার দাবি জানায়। দাবি পূরণ না হওয়ায় মীনাক্ষীকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি স্বামী-শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে আলাদা থাকেন।
এই ঘটনার জেরে বিষয়টি স্থানীয় পঞ্চায়েতে ওঠে। সেখানে সমাধানের প্রস্তাব রাখা হয়েছিল নিক্কির পরিবার হয় ৩৫ লক্ষ টাকা, অর্থাৎ বিয়েতে যত খরচ হয়েছিল তা ফেরত দেবে মীনাক্ষীর পরিবারকে, যাতে তিনি নতুন করে বিয়ে করতে পারেন, অথবা তাঁকে আবার শ্বশুরবাড়িতে ফিরিয়ে নিতে হবে। কিন্তু সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
যখন রোহিত ভাটির কাছে তাঁর স্ত্রীর এই অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। এগুলো শুধুই অভিযোগ।” তবে পরিবারের আরেক সদস্য দাবি করেন, পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যে একসময় দুইপক্ষ একে অপরের দিকে বন্দুক তাক করে ফেলেছিল।
এদিকে, গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর ঘটনায়, ২৬ বছরের নিক্কি ভাটিকে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা পুড়িয়ে মারে বলে অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি পণের চাহিদার মুখোমুখি হচ্ছিলেন। সেই ঘটনার সাক্ষী ছিল তাঁর সাত বছরের ছেলে ও তাঁর দিদি।সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, আগুনে ঝলসে যাওয়ার পরও নিক্কি সিঁড়ি বেয়ে নামছেন। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি মারা যান।
নিক্কির মৃত্যুতে দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়ালেও, নতুন করে সামনে আসা এই অভিযোগ পুরো ঘটনার রূপরেখা আরও জটিল করে তুলেছে। জানা গেছে, নিক্কির পরিবারও অতীতে পণ প্রথাকে সমর্থন করেছিল। তাঁর বাবা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন যে মেয়েদের বিয়ের সময় জামাইদের গাড়ি, নগদ টাকা ও সোনা দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি বলেছিলেন, “আমাদের সমাজে এভাবেই বিয়ে হয়।” ফলে প্রশ্ন উঠছে, যখন আইনত পণ নিষিদ্ধ, তখনও কেন সমাজে এই ভয়ঙ্কর প্রথা এত বছর ধরে চলে আসছে এবং কত প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।
