ওঙ্কার ডেস্ক : নয়ডার সেক্টর-১৫০-এ জলভরা খাদে গাড়ি পড়ে যাওয়ার পর ২৭ বছর বয়সী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার যুবরাজ মেহতার মর্মান্তিক মৃত্যুর তদন্ত আরও জোরদার করা হুল। মঙ্গলবার থেকে তদন্ত শুরু করেছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। কর্তব্যের অবহেলার অভিযোগের পর মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে SIT গঠন করা হয়েছে। পাঁচ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য দলটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী নয়ডা কর্তৃপক্ষের সিইও লোকেশ এম.কে তার পদ থেকে অপসারণ করেছেন। একজন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারকেও চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছেন। ড্রেনেজ নির্মাণ কাজে অবহেলার অভিযোগে পুলিশ একজন প্রমোটারকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার পর নলেজ পার্ক পুলিশ এই গ্রেপ্তারি অভিযান চালায়। এফআইআর-এ নাম থাকা অভিযুক্তদের খোঁজে জোর তল্লাশি চালায় পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুর সোওয়া ১২টা নাগাদ SIT নয়ডা কর্তৃপক্ষের অফিসে পৌঁছায়। এই ইস্যুতে এদিন মিরাট জোনের এডিজি ভানু ভাস্করের সভাপতিত্বে বোর্ডরুমে প্রায় ঘন্টা তিনেকের বৈঠক হয়। বৈঠকে পুলিশ কমিশনার লক্ষ্মী সিং, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেধা রূপম এবং নয়ডা কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত সিইও কৃষ্ণ করুণেশকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা প্রাসঙ্গিক ফাইল নিয়ে প্রস্তুত ছিলেন এবং প্রয়োজনে তাদের তলব করা হয়েছিল।
ভুক্তভোগীর বাবা রাজকুমার মেহতাকেও ডেকে প্রায় আধ ঘন্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মেহতা দাবি করেছেন যে তিনি তাঁর ছেলেকে জলে ডুবে যাওয়ার সময় গাড়ির ভেতরে আটকে থাকতে দেখেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, ঘটনাস্থলে প্রায় ৮০ জন লোক উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু কেউ যুবরাজকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেননি। দুর্ঘটনার রাতে ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে তাঁর বিস্তারিত বিবরণ তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইনপুট হিসাবে বিবেচিত হয়েছে।
বৈঠকের পর, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে এসআইটি সেক্টর-১৫০-এ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। দলটি গাড়িটি যেখান থেকে খাদে পড়েছিল, সেই রাস্তার মোড় যেখানে দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল এবং ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঘুরে দেখে। প্লট, সংলগ্ন সড়ক নেটওয়ার্ক এবং জড়িত নির্মাতা সম্পর্কিত তথ্যও সংগ্রহ করা হয়।
এডিজি ভানু ভাস্কর বলেন, তদন্তটি তিনটি ধাপে পরিচালিত হবে। “আজ দুই দফায় তা শেষ হয়েছে – কর্তৃপক্ষের অফিসে সভা এবং স্থান পরিদর্শন। তৃতীয় পর্যায়ে, সমস্ত প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সাক্ষীর বক্তব্য রেকর্ড করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “নাগরিক এবং পুলিশ উভয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা তদন্তাধীন, এবং দোষী সাব্যস্ত যে কারও বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সূত্র মারফত জানা গেছে, আগামী দিনে পুলিশ, দমকল বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বক্তব্য রেকর্ড করা হবে। রিপোর্ট খতিয়ে দেখে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এদিকে, নয়ডার সাংসদ মহেশ শর্মা মঙ্গলবার বলেছেন যে তিনি এই ঘটনার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, নয়ডার সিইওকে অপসারণ এবং চলমান তদন্ত সরকারের তৎপরতা প্রমাণ করে। তিনি বলেন, “সরকার শোকাহত পরিবারের পাশে রয়েছে। শীঘ্রই ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনা করা হবে।”
