ওঙ্কার ডেস্ক : পহেলগাঁও কাণ্ডের পাল্টা জবাব “অপারেশন সিঁদুর’’ এর পর থেকে বেসামাল পাকিস্তান। অন্য দিকে, পহেলগাঁও কাণ্ডের পর থেকে টানা ১৪ দিন সীমান্তে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে পাক সেনা।
মঙ্গলবার রাতে ভারতের প্রত্যাঘাতের পর ৭ ও ৮ তারিখ মধ্যবর্তী রাতে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চ, রাজৌরি, আখনুর, বারামুলা, কুপওয়ারা, উরি, এলাকায় পাকিস্তানি সেনা বিভিন্ন চৌকি থেকে গুলি চালিয়েছে। বিনা প্ররোচনায় এই গুলিবর্ষণ করেছে পাক সেনা। এই গুলিবর্ষণের জন্য নিহত হয়েছেন ১৩ জন। যাদের মধ্যে রয়েছেন ল্যান্সনায়েক দীনেশ শর্মা। তিনি পুঞ্চে সেনার এফডি রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। নিয়ন্ত্রণরেখায় পাকিস্তান টানা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় সেখানে মোতায়েন করা হয়েছিল ৫ এফডি রেজিমেন্টের জওয়ানদের। সেই দলে ছিলেন দীনেশ। পাকিস্তানের ছোড়া গোলায় জখম হন তিনি। হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয় তাঁর।
দীনেশের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বাবা দয়ানন্দ শর্মা জানিয়েছেন, দীনেশের আরো পাঁচ ভাই আছে দীনেশের আরো দুই ভাই সেনায় কর্মরত। পরিবেশ সূত্রে জানা গেছে দীনেশের আট বছরের দুই সন্তান রয়েছে এবং তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা।
দীনেশের বন্ধু প্রদীপ জানান, ‘‘৬ মে রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ দীনেশকে ফোন করেছিলাম। ওর সঙ্গে কিছু ক্ষণ কথা হয়েছিল। তখনই আমাকে জানিয়েছিল যে, মিশনে যাচ্ছি। যা হবে সব খবরাখবর দেব। তার পর ৭ মে ভোর ৪টের সময় দীনেশের ফোন আসে। কিন্তু আমি ফোন ধরতে পারিনি।’’ প্রদীপ আরও বলেন, ‘‘পরে আমি ফোন করি দীনেশকে। শুধু ‘হ্যালো’ শোনার পরই ফোনটা কেটে গিয়েছিল। সকাল ৭টায় আবার ফোন করি। ও পাশে ফোন ধরতেই জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ভাই, সব ঠিক আছে তো? কিন্তু দীনেশ নয়, অন্য এক জন ফোন ধরেছিলেন। তিনি জানান, গোলাবর্ষণে দীনেশ আহত হয়েছেন। তাঁর চিকিৎসা চলছে। তার কিছু পরেই বন্ধুর মৃত্যুসংবাদ আসে।’’
