অস্টিওপোরোসিস (Osteoporosis) নামটি অনেকের কাছেই অপরিচিত। সহজ ভাষায় একে হাড়ের ক্ষয়জনিত রোগ বলা যায়। এই রোগে হাড়ের ঘনত্ব ও শক্তি কমে যায়, ফলে হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে এবং সামান্য আঘাতেও হাড় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে মেনোপজের পর মহিলাদের মধ্যে অস্টিওপোরোসিসের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। তবে পুরুষেরাও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।
কী কী লক্ষণ দেখা যায়?
অস্টিওপোরোসিসকে নীরব রোগ বলা হয়, কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনও স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। অনেক সময় হাড় ভেঙে যাওয়ার পরেই রোগটি ধরা পড়ে। তবে রোগ বাড়লে কয়েকটি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন, কোমর বা পিঠে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, উচ্চতা ধীরে ধীরে কমে যাওয়া, মেরুদণ্ড সামনের দিকে বেঁকে যাওয়া এবং সামান্য পড়ে যাওয়া বা আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়া। বিশেষ করে মেরুদণ্ড, নিতম্ব ও কবজির হাড় ভাঙার ঝুঁকি বেশি থাকে।
কী কী সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত?
অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে সুষম খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাবারে দুধ, দই, পনির, ছোট মাছ, ডিম, ডাল এবং ক্যালশিয়ামসমৃদ্ধ অন্যান্য খাবার রাখতে হবে। শরীরে ভিটামিন ডি-এর পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করাও জরুরি, কারণ এটি ক্যালশিয়াম শোষণে সাহায্য করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোদে থাকা এবং প্রয়োজনে ভিটামিন ডি ও ক্যালশিয়ামের সম্পূরক গ্রহণ করা যেতে পারে।
নিয়মিত হাঁটা, হালকা ব্যায়াম এবং পেশি শক্তিশালী করার অনুশীলন হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলা উচিত। পাশাপাশি বাড়িতে পিচ্ছিল মেঝে, আলগা কার্পেট ও অন্ধকার সিঁড়ির মতো পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিগুলি দূর করতে হবে। বয়স্ক ব্যক্তিদের চলাফেরার সময় বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
উপশম ও চিকিৎসার উপায়
অস্টিওপোরোসিসের চিকিৎসায় প্রথমেই রোগ নির্ণয় জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শে হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা বা বোন মিনারেল ডেনসিটি (BMD) পরীক্ষা করা যেতে পারে। রোগের মাত্রা ও ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় ওষুধ দিতে পারেন। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পড়ে যাওয়া প্রতিরোধের ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর। ইতিমধ্যে হাড় ভেঙে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া দরকার।
মনে রাখতে হবে, অস্টিওপোরোসিস সম্পূর্ণভাবে অবহেলা করার মতো রোগ নয়। সচেতন জীবনযাপন, সময়মতো পরীক্ষা এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে হাড়ের ক্ষয়জনিত জটিলতা অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের যত্ন নিন, সুস্থ থাকুন এবং সক্রিয় জীবনযাপন করুন।