ওঙ্কার ডেস্ক: রাজধানী দিল্লিতে বড়সড় সন্ত্রাসী হামলার ছক বানচাল করল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। যৌথ অভিযানে পাকিস্তান-সমর্থিত বলে সন্দেহভাজন একটি জঙ্গি মডিউলের সঙ্গে যুক্ত ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ধৃতরা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার পরিকল্পনা করছিল এবং সেই উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে প্রস্তুতি চালাচ্ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের মূল লক্ষ্য ছিল দিল্লির একটি বিখ্যাত মন্দির, হরিয়ানার একটি সেনা ছাউনি এবং দিল্লি-সোনীপত হাইওয়ের একটি জনপ্রিয় ধাবা। এই সমস্ত এলাকায় তারা আগেই একাধিকবার গিয়ে রেকি চালায়। কোথায় নিরাপত্তা দুর্বল, কোন সময়ে বেশি মানুষের সমাগম হয়, কীভাবে হামলা চালালে সর্বাধিক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে এসব বিষয় খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা গুরুত্বপূর্ণ স্থানের ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে বিদেশে থাকা তাদের হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠিয়েছিল।
গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, এই জঙ্গি চক্রের পিছনে পাকিস্তানের মদত থাকতে পারে। বিশেষ করে আইএসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, সিমকার্ড এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেখান থেকে বেশ কিছু সন্দেহজনক তথ্য, যোগাযোগের নথি এবং হামলার সম্ভাব্য নকশা উদ্ধার হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
জেরায় জানা গিয়েছে, এই গোষ্ঠীর মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশে সাম্প্রদায়িক অশান্তি সৃষ্টি করা, সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করা। বেশ কিছু সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান। বিভিন্ন রাজ্যে তাদের যোগাযোগ ছিল কি না, সেই বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে।
এই ঘটনার পর দিল্লি, হরিয়ানা এবং সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান, সামরিক ঘাঁটি এবং জনবহুল এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গোটা ঘটনাকে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছে প্রশাসন। সময়মতো গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো না হলে বড়সড় প্রাণহানি ও নাশকতার আশঙ্কা ছিল বলেই মনে করছে তদন্তকারী মহল। বর্তমানে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই নেটওয়ার্কের আরও বিস্তৃত যোগসূত্র উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।