বিপ্লব দাশ : ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রে তৃতীয় গোষ্টির আগমন খুব দ্রুত বদলে দিচ্ছে এ দেশের রাজনৈতিক চিত্র। শাসক ও বিরোধী এই দুই শিবিরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠছে তৃতীয় গোষ্ঠি, যার নাম- দুর্নীতি। বলাবাহুল্য, শাসক ও বিরোধী এই দুই গোষ্টির বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে এর উৎপত্তি। যার কাজই হল রাজনীতিকে কলুষিত করা, সাধারণ মানুষের কন্ঠরোধ করা এবং উন্নতিকে পিছনে ঠেলে সামগ্রিক ভাবে একটা অচলায়তন তৈরি করা।
গত তিরিশ বছর ধরে ভারতীয় রাজনীতির মধ্যে এটা বেশ জাঁকিয়ে বসেছে। যার ফলে যে কোনো ইস্যুতে এখন মাথা ঘামাতে হচ্ছে বিচার ব্যবস্থাকে। তা যে কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে হোক, কিংবা রাজনৈতিক কার্যকলাপে। কিন্তু যে কোনো সামাজিক কিংবা প্রশাসনিক সমস্যা যদি রাজনৈতিক ভাবে সামাধান না করা যায় তাহলে তা কার্যত আঘাত করে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে। ফিরোজ গান্ধী, এন গি গোরে, মধু লিমায়ে, সমর গুহ, ভুপেশ গুপ্ত, ইন্দ্রজিৎ গুপ্ত, সোমনাথ চ্যাটার্জী কিংবা প্রণব মুখার্জীর মতো সাংসদ আমারা আর ভারতীয় রাজনীতিতে পাব কিনা তা বলা মুশকিল। রাজনীতি সম্পর্কে তাঁদের অগাধ পাণ্ডিত্য, সংবিধান সম্পর্কে অনুপুঙ্ক্ষ ধারণা আর বিচক্ষণতা একসময় গণতান্ত্রিক ভারতের মর্যাদা বাড়িয়েছিল। তাঁরা শুধু যে সংবিধান দক্ষ রাজনীতিক ছিলেন তা নয়, সংসদীয় নীতি নির্ধারণের বিচক্ষণ ও প্রাজ্ঞ ছিলেন। সে যুগ এখন পুরা কাহিনির মতো।
বস্তুত বোফর্সের হাত ধরে ভারতীয় রাজনীতিতে যে নেতিবাচক যুগের সূচনা হয়েছিল, কালে কালে তা রাষ্ট্র ছেড়ে পৌঁচেছে ব্যক্তিতে। তাই এখন রাজনীতি মানেই ব্যক্তি কুৎসা। মানুষ খাচ্ছেও তাই। এই নেগেটিভ প্রচারকে হাতিয়ার করে কোনো রাজনৈতিক দল যদি তার আন্দোলন চালায় তাহলে যা হবার, সেটাই হচ্ছে। রাজনীতিকরা আর সামাজিক সমস্যা মেটানোর জায়গায় থাকছে না। বরং সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলতেই ব্যস্ত। অফিস-কাছারি, স্কুল-কলেজ, এমন কি পাড়ার সমস্যাও পৌঁছে যাচ্ছে আদালতে। যেমন চাকরিহারা শিক্ষক শিক্ষিকাদের আন্দোলন নিয়ে আমরা কি দেখলাম ? সমস্যা মেটাতে সেই এগিয়ে আসতে হল আদালতকে। প্রশাসনকে বাতলে দিতে হল তার করণীয় কী, বোঝাতে হল সংগ্রামী শিক্ষক শিক্ষিকাদেরও।
এর পিছনে একটাই কারণ- অবজ্ঞা। এই অবজ্ঞা-সংস্কৃতিই একুশ শতকে রাজনীতিকে নামিয়ে এনেছে অবিশ্বাসের জায়গায়।
