ওঙ্কার ডেক্স : প্রবল হই হট্টোগোলের মধ্যেই বুধবার লোকসভায় গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কি রয়েছে এই বিলে ? জানা যাচ্ছে, প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে— দেশের প্রধানমন্ত্রী, যে কোন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী যদি গুরুতর অপরাধে টানা ৩০ দিন জেলবন্দি থাকেন, তবে ৩১তম দিনে তিনি পদ খোয়াবেন। এই বিলের মধ্যেই ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন বিরোধীরা। বিরোধী শিবিরের দাবি, ইডি, সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থা দিল্লির অধীনে। আর এই সস্বাশিত এজেন্সীকে গত ১১ বছর ধরে অপব্যবহার করেছে মোদি-শাহ সরকার। বিরোধীদের দুর্বল করতে বিজেপি ইডি, সিবিআইকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেছে তার নজির দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। বিরোধীদের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত বিল আইনে পরিণত হলে বিরোধী শূন্য দেশ করে দেবে বিজেপি। এই বিল আসলে বিরোধীদের সরকার ফেলে দিতে বিজেপির নতুন হাতিয়ার বলে তাঁরা আওয়াজ তুলেছেন।
পাশাপাশি ইন্ডিয়া জোটের দাবি, এই বিল দেশের গণতন্ত্র, সাংবিধানিক ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে। বুধবার সংসদে বিল পেশ হতেই তুমুল বিক্ষোভ শুরু করে বিরোধীরা। কংগ্রেস নেতা আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি অভিযোগের সুরে বলেন, “ বিরোধী রাজ্যগুলিকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের গ্রেফতার করে ঘুর পথে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা হচ্ছে।”

এই বিলকে বিরোধীতা করে সুর চড়িয়েছে তৃণমূল। তীব্র প্রতিবাদ করেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, “এই বিল কেন্দ্রীয় সরকারের স্বৈরাচারী মানসিকতার প্রকাশ। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ও বিচারব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে বিরোধী সরকারকে জবর দখল করতে বিজেপির হাতিয়ার ।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ যখন বিল পেশ করেন তখন বিরোধী সাংসদরা কাগজ ছুঁড়ে দেন। একটা অংশের দাবি, এই সংশোধন বিলে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যে সব জনপ্রতিনিধি পাঁচ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে একটানা ৩০ দিন হেফাজতে থাকবেন, তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে মুক্তি পাওয়ার পর পুনরায় তাঁরা পদে ফিরে আসতে পারবেন।
