নিজস্ব প্রতিনিধি: ইচ্ছে করলেই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়া যাবে না। অন্তত ১০ বছর এই চুক্তিতে থাকতে বাধ্য পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্ক। চুক্তির ১৬ দফা শর্তে এমনটাই উল্লেখ রয়েছে বলে জানিয়েছে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক সংবাদমাধ্যম। বলা হয়েছে, চুক্তি ছাড়তে হলে তিন মাস আগে নোটিস দিতে হবে।
গত ৭ অগস্ট সৌদির মক্কায় এই ত্রিদেশীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একে অপরের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে। চুক্তি অনুযায়ী, কোনও একটি দেশ আক্রান্ত হলে তা তিন দেশের উপর হামলা হিসেবে ধরা হবে এবং বাকি দুই দেশ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে সাহায্য করবে। এই কারণে অনেকেই একে ‘ইসলামিক নেটো’ বলে উল্লেখ করছেন।
শর্তে আরও বলা হয়েছে, চুক্তির মেয়াদ গণনা শুরু হবে স্বাক্ষরের দিন থেকে নয়, বরং সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সচিবালয়ে অনুমোদনের পর থেকে। ন্যূনতম মেয়াদ ১০ বছর।
এদিকে গত কয়েক দিন ধরে সৌদির জনবহুল এলাকা এবং তেল ক্ষেত্রগুলিকে নিশানা করে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। হুথিদের রুখতে সৌদি আরবের পাশাপাশি সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেন সরকারও। তাতেও হামলা থামছে না।
চুক্তির অন্যতম অংশীদার হলেও প্রথমে সৌদিতে সেনা পাঠাতে আগ্রহ দেখায়নি পাকিস্তান। সেপ্টেম্বরে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ মন্তব্য করেন, বিনা প্ররোচনায় আগ্রাসন হলে, বিশেষ করে ইয়েমেন এবং সৌদিতে যা ঘটছে, তাতে মক্কা চুক্তি কার্যকর করা যেতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যের পর জল্পনা তৈরি হয়, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদির পাশে দাঁড়াতে চলেছে ইসলামাবাদ।
পরে অবশ্য পাকিস্তান জানায়, চুক্তিটি পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক এবং এর মানে এই নয় যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেনা পাঠাতে হবে। শেষ পর্যন্ত চুক্তির শর্ত মেনেই হুথিদের মোকাবিলায় সৌদিতে সেনা পাঠাতে সম্মত হয় শাহবাজ শরিফ সরকার।