ওঙ্কার ডেস্ক: পহেলগাঁও হামলার তদন্তে নতুন মোড়। জম্মু ও কাশ্মীরের বাইসরান উপত্যকায় সংঘটিত নৃশংস জঙ্গি হামলার ঘটনায় উদ্ধার হওয়া একটি গো-প্রো ক্যামেরাকে ঘিরে এবার আন্তর্জাতিক স্তরে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। হামলায় ব্যবহৃত ওই অ্যাকশন ক্যামেরার উৎস ও ক্রয় সংক্রান্ত তথ্য জানতে বেইজিংয়ের দ্বারস্থ হয়েছে সংস্থাটি।
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া গো-প্রো হিরো ১২ ব্ল্যাক মডেলের একটি ক্যামেরা হামলাকারীরা ব্যবহার করেছিল। প্রাথমিক অনুমান, হামলার আগে রেকি করা কিংবা হামলার মুহূর্তের ফুটেজ ধারণ করার উদ্দেশ্যেই এই ক্যামেরাটি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। ক্যামেরার সিরিয়াল নম্বরের ভিত্তিতে নির্মাতা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে এনআইএ জানতে পারে, নির্দিষ্ট এই ডিভাইসটি চিনের একটি ডিস্ট্রিবিউটর সংস্থার মাধ্যমে বাজারে ছাড়া হয়েছিল।
তবে ক্যামেরাটি ঠিক কার কাছে বিক্রি হয়েছিল, কীভাবে ভারতে পৌঁছল এবং কে বা কারা এটি সক্রিয় করেছিল সেই তথ্য নির্মাতা সংস্থার কাছে নেই বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি চিনের ডংগুয়ান অঞ্চলে প্রথমবার ডিভাইসটি সক্রিয় করা হয়েছিল। এর পরবর্তী ব্যবহার ও লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য পেতে চিনা কর্তৃপক্ষের সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করছে তদন্তকারীরা।
এই প্রেক্ষিতে জম্মুর একটি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে এনআইএ ‘লেটার রগেটরি’ জারি করার আবেদন জানায়। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। এর ফলে সরকারি ভাবে চিন সরকারের কাছে ওই ক্যামেরার সরবরাহ শৃঙ্খল, ক্রেতার পরিচয় এবং সক্রিয়করণ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য চাওয়া হবে। আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে হামলার ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে থাকা চক্রকে চিহ্নিত করাই মূল লক্ষ্য।
গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের মনোরম বাইসরান উপত্যকায় পর্যটকদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায় সশস্ত্র জঙ্গিরা। ঘটনায় ২৫ জন পর্যটক এবং এক স্থানীয় ঘোড়াওয়ালার মৃত্যু হয়। সাম্প্রতিক সময়ে কাশ্মীরে এটি অন্যতম ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই উপত্যকাজুড়ে তল্লাশি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের মতে, উদ্ধার হওয়া প্রযুক্তিগত প্রমাণ এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আধুনিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি প্রায়শই হামলার পরিকল্পনা, প্রচার বা প্রশিক্ষণের কাজে অ্যাকশন ক্যামেরা ব্যবহার করে। ফলে এই ডিভাইসটির পূর্ণ তথ্য হাতে এলে হামলাকারীদের গতিবিধি ও আন্তর্জাতিক যোগসূত্র সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ছবি মিলতে পারে।
এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তথ্য আদানপ্রদানই তদন্তের মূল চাবিকাঠি হয়ে উঠেছে। এখন নজর বেইজিংয়ের প্রতিক্রিয়ার দিকে।
